হোম জাতীয় অটোরিকশা গায়ে লাগায় লাঠি-সড়কি নিয়ে সংঘর্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

জাতীয় ডেস্ক :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জের দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে গ্রামবাসীর দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে শনিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশকিছু বাড়িঘর-দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বারঘরিয়া গ্রুপের বাড়িতে ওয়াজ মাহফিল হয়। মাহফিলকে কেন্দ্র করে রাস্তার ওপর কিছু ভাসমান দোকান বসেছিল। এ সময় রাস্তা দিয়ে এলাকার জারুমিয়া বাড়ির মো. রুহুল আমিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় অটোরিকশাটি বারঘরিয়া গ্রুপের একজনের গায়ে লাগে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বারঘরিয়া গ্রুপের লোকজন রুহুল আমিনকে মারধর ও অটোরিকশাটির গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে রহুল আমিন বাড়ি গিয়ে বিষয়টি লোকজনকে জানায়। পরে তার গ্রুপের লোকজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে বারঘরিয়া গ্রুপের দুই অটোরিকশা আটক করে।

এদিকে বিষয়টি সমাধানে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাসলে মিয়া তার পরিষদের মেম্বার বারঘরিয়া গ্রুপের মো. মিজান মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন। মিজান মেম্বার চেয়ারম্যানের বাড়িতে এলে চেয়ারম্যানের সামনেই জারুর গ্রুপের লোকজন তাকে পিটিয়ে আহত করে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বারঘরিয়া গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জারুর গ্রুপের লোকজনের ওপর হামলা করে। পরে জারুর গ্রুপের লোকজনও পাল্টা হামলা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে রাতের ঘটনার জেরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সংঘর্ষে দুর্গাপুর গ্রামের অন্যান্য গ্রুপের লোকজনও জারুর গ্রুপ ও বারঘরিয়া গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই উভয়পক্ষের ৩০ জন আহত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ঘটনা মীমাংসার কথা বলে চেয়ারম্যান আমাকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। তার সামনেই লোকজন আমাকে পিটিয়ে আহত করে।’

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাসলে মিয়া বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ঘটনার জেরে শনিবার সকালে আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হানিফ মুন্সি বলেন, ‘স্থানীয় সর্দার-মাতবরদের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। তবে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন