বাণিজ্য ডেস্ক :
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এজেন্টরা হুন্ডির মাধ্যমে গত এক বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। সারা দেশে হুন্ডির সঙ্গে জড়িত পাঁচ হাজার এজেন্ট শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। হুন্ডির সঙ্গে জড়িত ১৬ জনকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া।
বৈধপথে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সচল রেখেছে দেশের অর্থনীতির চাকা। বৈধ চ্যানেলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে প্রণোদনাও দিয়ে থাকে সরকার। তারপরও অবৈধপথে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা পাঠান প্রবাসীরা, যা রিজার্ভে যোগ হয় না।
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এজেন্টের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ১৬ জনকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া। তিনি দেন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তিনি জানান, সারা দেশে হুন্ডির সঙ্গে জড়িত প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি এজেন্ট অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা এমন কিছু জিনিসে পেয়েছি, যা সত্যিকার অর্থে উদ্বেগজনক। সেই সঙ্গে এটি একটি জাতির জন্য, একটি দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা পাঁচ হাজার অবৈধ এজেন্টের সন্ধান পেয়েছি।’
এই পাঁচ হাজার এজেন্টের হুন্ডি ব্যবসার কারণে গত চার মাসে বাংলাদেশ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ মূল্যের রেমিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা এক বছরে দাঁড়ায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা।
মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ‘এক বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকার মতো অর্থ পাচার হয়েছে, যা ডলারে হিসাব করলে হয় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এখন যদি এ অর্থ বৈধপথে দেশে আসত, তাহলে আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেশি থাকত।’
সিআইডি বলছে, হুন্ডি চক্রের সদস্যরা দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থান করে বাংলাদেশি ওয়েজ আর্নারদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ করে, তা বাংলাদেশে না পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় টাকায় স্থানীয়ভাবে পরিশোধ করছে। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি কমে গেছে।
