হোম জাতীয় হবিগঞ্জ পৌর বিপণির দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

জাতীয় ডেস্ক :

হবিগঞ্জ আধুনিক পৌর বিপণির দোকান বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হঠাৎ বিপণির প্রথম তলার ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছেন তারা। তাই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন দোকান মালিকদের একাংশ।

বিচারক আবেদন গ্রহণ করে উচ্ছেদের নোটিশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর সচিবকে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন। আইনজীবী আমিনুল ইসলামের আবেদনে বিচারপতি জাফর আহমেদ ও মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা না পেয়ে মেয়র তাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছেন। এ জন্য তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এ ব্যাপারে রিট আবেদনকারী রফিক মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলে রুহুল ইসলাম রিফাত জানান, তার বাবা বর্তমানে দেশের বাইরে (কুয়েত) রয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর গৌতম কুমার রায় বলেন, ‘দুর্নীতির কারণে সাময়িক বরখাস্ত পৌরসভার বাজার পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী রোকেয়া খাতুন পৌরসভার নীতিমালা অগ্রাহ্য করে দোকান বিক্রি করেছেন। বর্তমানে পৌরসভার উন্নয়নের জন্য আমরা দোকান আধুনিকায়ন করে উপযুক্ত মূল্যে বরাদ্দ দিতে চাই। এ জন্য তাদের নোটিশ দেয়া হয়েছে।’

পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিম বলেন, ‘আগের মেয়রের আমলে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এসব দোকান ব্যবহার করে আসছে একটি চক্র। আমি পৌরসভার আয়ের লক্ষ্যে দোকানের উন্নয়ন করে প্রকৃত দামে বরাদ্দ দিতে চাই। কিন্তু আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, তা মেনে আমরা আইনিভাবে এর জবাব দেব।’

মেয়রের দাবি, দুর্নীতির কারণে সাময়িক বরখাস্ত পৌরসভার বাজার পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া তার স্ত্রী রোকেয়া খাতুনের নামে সাবেক মেয়র জিকে গউছের আমলে পৌর বিপণির প্রথম তলার দুই হাজার বর্গফুট খালি ফ্লোর ব্যবহারের জন্য অনুমোদন নেন। পরবর্তী সময়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে এই খালি ফ্লোরে ১৫টি দোকান তৈরি করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। বর্তমান মেয়র আতাউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌর বিপণিবিতানের দোকাগুলো অবৈধভাবে ব্যবহারের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পৌরসভার আয় বৃদ্ধির স্বার্থে অবৈধ ব্যবহারকারীদের উচ্ছেদ ও দোকানগুলোর উন্নয়ন করে উপযুক্ত মূল্যে নতুনভাবে বরাদ্দের উদ্যোগ নেন। এ প্রেক্ষিতে পৌরসভার উন্নয়নের লক্ষ্যে জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর তিন মাসের সময় দিয়ে নোটিশ দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। গত ৬ ডিসেম্বর নোটিশের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে উচ্চ আদালত এ নোটিশ স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন।

এদিকে আদালতে রিটের ছয় দিন পর আবেদনকারী রফিক মিয়াসহ ১১ ব্যবসায়ী তাদের নিজেদের পূর্বের চুক্তিনামা পৌরসভার নীতিমালা অনুযায়ী হয়নি দায় স্বীকার করে মানবিক কারণে সঠিকভাবে চুক্তি করে পুনঃ বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, পৌরসভার নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসায়ীরা এতদিন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন