নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই জন নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন ইস্কেভেটর চালকসহ ৪ জন। রবিবার সকালে সাতক্ষীরার সদর উপজেলার খেজুরডাঙ্গায় ও শনিবার রাতে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনয়নের নারিকেলি গ্রামে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, সাতক্ষীরার সদর উপজেলার খেজুরডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের নারিকেলি গ্রামের পিয়ার আলী গাজীর ছেলে আব্দুল লতিফ (৫২)।
এদিকে, আহতরা হলেন, সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের খেজুরডাঙ্গা গ্রামের আমীর আলীর ছেলে ইরশাদ আলী (৩৫), মৃত ফটিক গাজীর ছেলে মহিদুল মজিদ (৪০), জোহর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০) ও ইস্কেভটরচালক ঢাকার হুমায়ুন কবির। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খেজুরডাঙ্গা গ্রামের মহিদুল মজিদ জানান, খেজুরডাঙ্গা বিলে রবিবার সকাল ৮ টার দিকে তাদের মাছের ঘেরে ইস্কেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছিল। মাটি কাটার সময় তারা পাশে দাড়িয়ে ছিল। এসময় শুরু হয় প্রচুর বৃষ্টি ও বজ্রপাত। তিনি আরো জানান, এ সময় তারা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আগেই বজ্রপাতে ফারুক হোসেন মারা যান। এছাড়া তিনিসহ এ সময় ৪জন আহত হন।
লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জানান, মাছের ঘেরে মাটি কাটার সময়ে বজ্রপাতে ফারুক হোসেন নিহতসহ আরও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফারুকের মরদেহ তার খেজুরডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে রাখা হয়েছে।
অপরদিকে, দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের নারিকেলি গ্রামের আব্দুল লতিফ শনিবার রাতে তার বাড়ির পাশে পাতনার বিলে নিজস্ব মৎস্য ঘেরের বাসায় এশার নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এ সময় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত। একপর্যায়ে ঘেরে বাসায় ভিতরেই বজ্রপাতে মারা যান আব্দুল লতিফ। রাতেই তার বৃদ্ধ বাবা পিয়ার আলী গাজী ছেলেকে বার বার মোবাইল ফোনে রিং দিয়ে তাকে না পেয়ে স্থানীয় এবাদুল নামের এক ব্যক্তিকে নিয়ে ছেলের খোঁজে যান তার মৎস্য ঘেরে। সেখানে গিয়ে দেখেন তার ছেলের মরদেহ ঘেরের বাসায় পড়ে আছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির ও দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ওবায়দুল্লাহ পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতে দুই জন নিহত ও ৪ জন আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
