জাতীয় ডেস্ক :
প্রয়োজনীয় সংস্কার আর দেখভালের অভাবে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে পঞ্চগড়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দেড় হাজার বছরের পুরোনো পৃথু রাজার ঐতিহাসিক মহারাজ দিঘি। বন-জঙ্গল আর নানান আগাছায় পরিপূর্ণ পুকুরপাড়ের বেহাল দশা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। দিঘির প্রাচীনতা আর নানান রূপকথার কারণে প্রতিদিন বিশাল আকারের এ দিঘি দেখতে আসা লোকজন বলছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মহারাজার দিঘি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পঞ্চগড়ের পরিচিতি নতুন করে তুলে ধরবে। আর পঞ্চগড় জেলা পরিষদ প্রশাসক জানান, বিভিন্ন দফতরের সহযোগিতা নিয়ে দিঘির প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।
পুকুরপাড়ের সবুজ প্রকৃতি আর ঘন গভীর জলের অপরূপ সৌন্দর্য যেন একসঙ্গে মিশেছে মহারাজা দিঘিতে। পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অমরখানা ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা ভিতরগড় এলাকায় ঐতিহাসিক এ দিঘির অবস্থান। ৫৪ একরেরও বেশি জমিতে খনন করা পুকুরে জলের আয়তনে লম্বায় ৮০০ গজ, প্রস্থে ৪০০ গজ। পুকুর পাড়ের উচ্চতা ২০ ফুট আর পানির গভীরতা প্রায় ৪০ ফুট। স্থানীয় লোকজন জানায়, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে রাজা জলেশ্বর পৃথু ভিতরগড়ে রাজধানী স্থাপন করে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আর নিরাপত্তার জন্য প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মাণ করেন বিশাল দুর্গনগরী।
রাজকার্য পরিচালনার জন্য পৃথু রাজা নির্মাণ করেন রাজপ্রাসাদ, মন্দির এবং পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে খনন করেন বিশাল আকারের দিঘি। স্থানীয়দের কাছে যা মহারাজার দিঘি নামে পরিচিত। পরবর্তী সময় পৃথু রাজা কিচক নামের জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে আক্রান্ত হলে নিজ পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই পুকুরে আত্মহনন করেন। রাজার রক্ষীবাহিনীও তাকে অনুসরণ করায় পৃথু রাজার রাজত্বের অবসান ঘটে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজার রহমান সময় সংবাদকে বলেন, ‘ইতঃপূর্বে বাপ-দাদা ও এলাকার মুরুব্বিদের কাছে শুনছি যে মহারাজার এমন একটা উপকথা আছে যে ওখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান, মিলাদ অনুষ্ঠান করলে মহারাজার দিঘি থেকে থালাবাসন থেকে শুরু করে হাঁড়ি পাওয়া যায়। রাতের বেলা বললে সকালবেলা গিয়ে নিয়ে আসা হয়। অনুষ্ঠান শেষ করে আবার রাতে সেখানে দিয়ে আসতে হয়। এতে কোনো টাকাপয়সা লাগে না।’
ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘির নৈসর্গিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করলেও আবাসিক সুবিধা, শৌচাগার ও বসার তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানান দিঘি দেখতে আসা প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে দিঘির সৌন্দর্য বৃদ্ধির বিকল্প নেই জানিয়ে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার সাদাত সম্রাট সময় সংবাদকে জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দফতরে কথা চলছে। এ জন্য তিনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার আহ্বান জানান।
