জাতীয় ডেস্ক :
ছেলেদের পরনে পাঞ্জাবি আর মেয়েদের কপালে লাল টিপ ও পরনে লাল শাড়ি! চারদিকে রঙিন পতাকা, লাল ও নীল ব্যানারে শিক্ষার্থীদের ছুটে চলা। মাথায় বাহারি ক্যাপ, কারও হাতে ঢোল ও তবলা। কেনই বা হবে না! ভালোবাসা, আবেগ ও অনুভূতির ১৭৫ একরের জন্মদিন আজ। তাইতো নবরূপে সেজেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বছরের এই দিনটির জন্য ইবির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায় থাকে।
দিনের শুরুতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগে উপস্থিত। কারণ বিভাগের হয়ে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া। সকল বিভাগ, আবাসিক হল, প্রশাসন, প্রকৌশল অফিস, জনসংযোগ অফিস, পরিবহন অফিসসহ নিজস্ব ব্যানারে এ শোভায় অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রায় ঢোল ও তবলার তালে চলে জন্মদিনের স্লোগান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়্যা, রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আলী হাসান।
৪৩ বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
৪৩ বছর পেরিয়ে ৪৪ বছরে পা দিয়েছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ৪৩ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্তির ঝুড়ি অনেকটাই পূর্ণ হয়েছে। চরম সংকটাপন্ন অবস্থা মোকাবিলা করতে হয়েছে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। এর মধ্যে পার হয়েছে ১২ জন উপাচার্য। বর্তমানে ৮টি অনুষদের অধীন ৩৬টি বিভাগে চলছে পাঠদান। বাংলা বিভাগের আওতায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’। যেখানে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিস্তর পঠন, পাঠন ও গবেষণা চলবে। শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নির্মাণ হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মুর্যাল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’। যা দেশের দ্বিতীয় উচ্চতম বঙ্গবন্ধু ম্যুর্যাল। মুক্তিযুদ্ধের উপর বিস্তর জ্ঞান অর্জনে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার, বঙ্গবন্ধু কর্নার এবং একুশে কর্ণার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এছাড়াও সেশনজট থেকে মুক্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ৫৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। এর আওতায় নির্মিত হচ্ছে ৯টি দশতলা ভবন। তৈরি হয়েছে একটি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান গবেষণাগার। ওই মেগা প্রকল্পের অধীনে কিছু ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিকীকরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে অর্ধশতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। আগামী পাঁচ বছরের জন্য পাশ হয়েছে অর্গানোগ্রাম।
এতো প্রাপ্তির মাঝেও কিছু অপ্রাপ্তির কথাও আছে। আবাসন সংকট এর মধ্যে অন্যতম। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। তবে মোট আটটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থী বাস করছেন প্রায় আট হাজার। এর মধ্যে ছাত্রদের পাঁচটি আর ছাত্রীদের তিনটি। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও তা আজও সম্ভব হয়নি। ফলে পরিবহন নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। বছর বছর শিক্ষার্থী বাড়লেও আবাসিক হলের অপর্যাপ্ত রয়েই যাচ্ছে। যার কারণে প্রত্যেক বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ব্যয়ের দশ শতাংশ গুনতে হয় পরিবহনের পেছনে। এছাড়াও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা কাজ, অঞ্চলভিত্তিক রাজনীতিসহ বেশকিছু বিষয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি।
এর উপর যোগ হয়েছে শিক্ষক রাজনীতি। যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের উপরে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ আবাসিক হবে। গবেষণাকাজে প্রশাসন তাদের মানসিক ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবে।
এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা প্রতিয়মান। এগুলো সবাই মিলে সমাধান করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ হলে আমাদের আবাসিক সুবিধে বৃদ্ধি পাবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয় সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করতে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা আরও বেশি মনোনিবেশ করবে আশা করি।’
