হোম জাতীয় শাকিল হত্যা, লাগাতার হুমকি, আতঙ্কে পরিবার

জাতীয় ডেস্ক :

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহম্মেদ হত্যার ঘটনায় আসামিদের হুমকিতে আতঙ্কে রয়েছে তার পরিবার। মামলার প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ নয়জন কারাগারে থাকলেও অন্য আসামি ও তাদের স্বজনরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

পরিবারের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাড়াটে লোকজন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাকিলকে কুপিয়ে হত্যা করে । মামলা থেকে নাম বাদ দিতে অনবরত হুমকি দিচ্ছে আসামিরা।

রোববার (১৩ নভেম্বর) নিহতের বড় ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আলম জানান, আসামিদের হুমকিতে প্রতিনিয়তই আতঙ্কে আর ভয়ের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। মামলার প্রধান আসামিসহ নয়জন গ্রেফতার হলেও এখনও অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে। আসামি ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

নিহত শাকিলের স্ত্রী কাকুলী আহমেদ বলেন, ‘নৃশংসভাবে আমার স্বামীকে তারা কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমার দুই সন্তান বাবার শোকে পাগলপ্রায়। এখন আবার বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে আমাদের ছাড়বে না। পরিবারের ছোট ছোট সন্তান নিয়ে আমরা অসহায় দিনযাপন করছি।’

শাকিলের মা শাহিনুর বেগম বলেন, ‘আমরা কেউই রাতে বের হতে পারি না। দিনেও অনেক ভয়ে বের হতে হয়। কারণ, আমাদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। কয়েকজন আসামি ধরা পড়লেও বাকিরা পলাতক। আমরা অনেক আতঙ্কে আছি, কখন তারা কী করে! আমার নির্দোষ ছেলেটাকে রফিকুল ও তার লোকজন নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের আমি বিচার চাই।’

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আনাম জানান, ঘটনার পরপরই নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রতিনিয়তই এলাকায় খোঁজখবর নিচ্ছে এবং বিষয়টি নজরে রাখছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে গেলে নামঞ্জুর করে মামালার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ। কারাগারে নেয়ার সময় আদালতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা লোকজন।

উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহম্মেদ ও পরিবারের লোকজনকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা করে চেয়ারম্যানের লোকজন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আহতদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ সেপ্টেম্বর (রোববার) ভোরে শাকিল মারা যান। ওই দিনই ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে চেয়ারম্যানসহ নয়জনকে গ্রেফতার করে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন