নিউজ ডেস্ক:
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পেছনে নারী ও মাদকসংক্রান্ত বিরোধের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। স্বজন ও বন্ধুদের অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে ধারণা করছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করার পর শিহাব উদ্দিন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এক তরুণীকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে শাহবাগ থানার একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, শহীদ মিনারে এমন নৃশংস ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মাদক ও নারীঘটিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ মিনারে রাকিবুলের ওপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। প্রথমে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং পরে গুলি করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পালানোর সময় পথচারীরা শিহাব উদ্দিন নামে এক বাসচালককে আটক করে পুলিশে দেয়। শিহাব স্বীকার করেছেন যে, এক তরুণীর ফোন পেয়ে তিনি খুলনা থেকে ঢাকায় আসেন এবং রাতে এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে রাকিবের ঘনিষ্ঠতা ও বিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা জানিয়েছেন তার বন্ধুরা। তাদের দাবি, জান্নাত মুন নামের এক তরুণীর সঙ্গে রাকিবের বন্ধুত্বের জেরে তার আগের স্বামী সাজিদের সঙ্গে রাকিবের বিরোধ চলছিল। সাজিদ ইতিপূর্বে রাকিবকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
রাকিবের প্রথম স্ত্রী হাবিবা আক্তারের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তিনি জানান, জান্নাত মুনের মাধ্যমে বিভিন্ন পার্সেল আসত যাতে মাদক থাকত বলে তার সন্দেহ। রাকিব এসব পার্সেল সংগ্রহ করতে অনীহা জানানোয় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতো। এছাড়া এক সপ্তাহ আগে একটি ভুয়া পার্সেল সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েও রাকিবকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জান্নাত মুন ও সাজিদ নজরদারিতে রয়েছেন। ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মাদক কারবারে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে এবং এই চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাকিবের শরীরে অন্তত পাঁচটি গভীর কোপের চিহ্ন এবং পিঠ ও পেটে গুলির ক্ষত রয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল পার্ক করার পরপরই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র হামলাকারী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাকিবুল ইসলাম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘রাকিব আহম্মেদ’ নামে কনটেন্ট তৈরি করতেন এবং স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
