হোম ফিচার শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হবে: পুলিশ সুপার

সংকল্প ডেস্ক :

নতুন নিয়মে পুলিশ নিয়োগে বাছাই সাত ধাপে:

আব্দুস সামাদ: বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক শূন্য পদের বিপরীতে ৬৪ জেলায় তিন হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫০জন পুরুষ এবং ৪৫০ জন নারী। সাতক্ষীরা জেলায় ৪১জন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে পুরুষ ৩৫জন এবং নারী ৬ জন। উন্নত বাংলাদেশের উপযোগী করে পুলিশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ বছর কনস্টেবল পদের নিয়োগ পরীক্ষার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন নিয়মে কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য সাতটি ধাপ অনুসরণ করে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে। এ উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রকার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের এক বক্তব্য থেকে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী দেশ এবং উন্নত দেশের নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে পুলিশের নতুন নিয়োগ নীতিমালা করা হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে মেধা ও শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী বাংলাদেশ পুলিশে সুযোগ পাবে।
সেই নির্দেশনা মোতাবেক সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, পিপিএম (বার) শতভাগ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে কোন প্রকার দালাল বা খারাপ লোকের খপ্পরে পড়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মেধাবী এবং দেশ প্রেমিক প্রার্থীদের পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের জন্য আবেদন করার কথা বলেছেন।

যাঁরা আবেদন করতে পারবেন: বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক অবিবাহিত পুরুষ ও নারী, যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর। যেসব প্রার্থীর বয়স ৭ অক্টোবর ২০২১ তারিখে এই বয়সসীমার মধ্যে থাকবে, তাঁরা আবেদনের যোগ্য। তবে ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে যাঁরা সর্বোচ্চ বয়সসীমায় পৌঁছেছেন, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের যোগ্যতা: প্রার্থীকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ থাকতে হবে। সাধারণ ও অন্যান্য কোটার ক্ষেত্রে পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি হতে হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধা (মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তান ব্যতীত) কোটার ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। নারী প্রার্থীর উচ্চতা সাধারণ ও অন্যান্য কোটার ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি হতে হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। বুকের মাপ সাধারণ ও অন্যান্য কোটার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি। মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি।

আবেদনের শেষ সময়: ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে আবেদন শুরু হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে। আবেদনের শেষ সময় ৭ অক্টোবর।

যে সাত ধাপে প্রার্থী বাছাই:

১. প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং: আগ্রহী প্রার্থীদের এই ওয়েবসাইটে (ঢ়ড়ষরপব.ঃবষবঃধষশ.পড়স.নফ) লগইন করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। প্রার্থী মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে আবেদন নিয়োগের যেকোনো পর্যায়ে বাতিল হবে। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আবেদনকারীর মুঠোফোনে পরবর্তী ধাপে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।

২. শারীরিক মাপ ও শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষা: এই ধাপে মোট তিন দিন প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করা হবে। প্রথম দিনে ভেন্যুতে প্রবেশের পর প্রার্থীর উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ এবং কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর দুই দিনে প্রার্থীকে সাতটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয় দিনে হবে চারটি ইভেন্ট ২০০ মিটারের দৌড়, পুশ আপ, লং জাম্প ও হাই জাম্প। তৃতীয় দিনে হবে তিনটি ইভেন্ট ১৬০০ মিটারের দৌড়, ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইমিং।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম ইভেন্টে পুরুষ প্রার্থীকে ২৮ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড়াতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৩৪ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড়াতে হবে। দ্বিতীয় ইভেন্টে পুরুষ প্রার্থীকে ৩৫ সেকেন্ডে ১৫ বার পুশ আপ দিতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৩০ সেকেন্ডে ১০ বার। পুরুষ প্রার্থীকে ১০ ফুট লং জাম্প দিতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৬ ফুট লং জাম্প। পুরুষ প্রার্থীর জন্য সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার হাই জাম্প এবং নারী প্রার্থীর জন্য আড়াই ফুট উচ্চতার হাই জাম্প।

শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষার তৃতীয় দিনে পুরুষ প্রার্থীকে ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে ১৬০০ মিটার দৌড়াতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৬ মিনিটে এক হাজার মিটার দৌড়াতে হবে। ড্র্যাগিং ইভেন্টে পুরুষ প্রার্থীকে দেড় শ পাউন্ড ওজনের টায়ারকে টেনে ৩০ ফুট দূরত্বে নিতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ১১০ পাউন্ড ওজনের টায়ারকে টেনে ২০ ফুট দূরত্বে নিতে হবে। সপ্তম ইভেন্ট রোপ ক্লাইমিং। এই ইভেন্টে পুরুষ প্রার্থীকে দড়ি বেয়ে ১২ ফুট ওপরে উঠতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৮ ফুট ওপরে উঠতে হবে। এই ইভেন্টে উত্তীর্ণ হলে প্রার্থী শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবেন।

৩. লিখিত পরীক্ষা: শারীরিক মাপ ও শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞানের ওপর মোট ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে।

৪. মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১৫ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

৫. প্রাথমিক নির্বাচন: প্রতি জেলার শূন্য পদ ও কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।

৬. পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা: প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পাস করলে প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করতে হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশন সন্তোষজনক হলে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হবে। তবে ভেরিফিকেশনে তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিলে প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

৭. চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্তকরণ: প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগদানের পর তাঁদের শারীরিক যোগ্যতাসহ অন্যান্য তথ্য আবার যাচাই করবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পুনর্বাছাই কমিটি। এসব তথ্যা যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সাফল্যের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, পিপিএম (বার) বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে, দক্ষ এবং যোগ্য প্রার্থী বাচাই করে নিয়োগ দেওয়া হবে। কোন প্রকার দালাল বা খারাপ লোকের খপ্পরে পড়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোন প্রকার তদবির বা অসৎ পথ অবলম্বন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, সম্পুর্ণ মেধার ভিত্তিতে, যাদের ভিতরে সততা রয়েছে, দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার মনোভাব রয়েছে তারাই পুলিশে যোগদান করতে পারবে।

কারও কোন খবরে বিভ্রান্ত না হয়ে মেধাবীদের পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করার জন্য আবেদন করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কেউ যদি কোন প্রলভন দেখায় বা খারাপ প্রস্তাব দেয় তাহলে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে অথবা ৯৯৯ কল করে অথবা সরাসরি পুলিশ সুপারকে জানালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ইতোমধ্যে মাঠ প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। যে সকল পুলিশ সদস্য নিয়োগ সংক্রান্ত কাজ করবে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ হেড কোয়াটার্স এবং বিভাগীয় রেঞ্জ অফিসের অভিজ্ঞ পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হবে

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন