খেলাধূলা ডেস্ক :
বিশ্বকাপের দামামা বাজছে। ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততা শেষে ফুটবলাররা ব্যস্ত এখন বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে। গত মৌসুমে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ব্যালন ডি’অর জয় করা করিম বেনজেমা কাতার বিশ্বকাপে যাচ্ছেন ফ্রান্সের হয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। তার আগে অবশ্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে বোমা ফাটিয়েছেন এই ফরাসী। ব্যালন ডি’অর জেতার পর বেনজেমাকে শুভকামনা জানিয়ে কোনো বার্তা পাঠাননি রোনালদো।
বিশ্বকাপের আগে নিজের ও দলের লক্ষ্য জানাতে বেনজেমা মুখোমুখি হয়েছিলেন টেলেফুটের। সেখানে বিশ্বকাপ নিয়ে কথার পাশাপাশি তিনি কথা বলেন ব্যালন ডি’অর নিয়েও। সেখানেই জানান, ব্যালন ডি’অর জয়ের পর এখনও পর্যন্ত অসংখ্য ফুটবলার তাকে শুভকামনা জানিয়ে বার্তা পাঠালেও, সাবেক সতীর্থ রোনালদো তাকে কোনো বার্তাই পাঠাননি। তার এমন মন্তব্য চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপার হ্যাটট্রিক করে স্পেন ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমান রোনালদো। য়্যুভেন্তাসের হয়ে দুবার লিগ জয় করা রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যেয়ে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। অন্যদিকে রোনালদো মাদ্রিদ ছাড়ার পর থেকে উড়ছেন করিম বেনজেমা। সবশেষ মৌসুমে ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে জিতিয়েছেন লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ডাবলস। যা তাকে এনে দিয়েছে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর।
২০০৯ সালে একই সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও করিম বেনজেমা। রিয়াল মাদ্রিদের দারুণ সাফল্যের নেপথ্যে রোনালদোর সঙ্গে বেনজেমার জুটির ভূমিকা সকলেরই জানা। স্ট্রাইকার হয়েও মাদ্রিদে বেনজেমা পালন করেছেন ভিন্ন এক ভূমিকা। গোলের জন্য রোনালদোর দারুণ স্ট্রাইকিং ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কোচরা সাধারণত বেনজেমাকে ব্যবহার করতেন স্পেস ক্রিয়েটর হিসেবে। যার কারণে দেখা যায় রোনালদোর প্রচুর গোলের নেপথ্যে আছেন এই ফরাসি। আবার বেনজেমার অসংখ্য গোলের পেছনে আছে রোনালদোর ভূমিকা। তাই বেনজেমার এমন সাফল্যের পর রোনালদো তাকে শুভকামনা জানাবেন, এমনটাই ভেবেছিলেন বেনজেমা।
সে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, ব্যালন ডি’অর জয়ের আগপর্যন্ত ফুটবলকে বিদায় বলেবেন না, এমনটাই নাকি ছিল তার ইচ্ছা। নিজের প্রতিভা ও ফুটবলীয় দক্ষতার ওপর আস্থা থেকেই এমন স্বপ্ন দেখছিলেন এই ফরাসী। যে কারণে শেষ কয়েক বছরে নিজেকে আরও শানিত করেন তিনি।
বেনজেমা বলেন, ‘আমি ব্যালন ডি’অর না জেতা পর্যন্ত খেলা ছেড়ে দিতে চাইতাম না। আমার সবসময় নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল, আমি জানতাম যে কোন এক পর্যায়ে, আমার কোয়ালিটি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা দিয়ে আমি এটা জিততে পারি।’
তিনি যোগ করেন, শেষ চার বছর ধরে এই ট্রফিটা জেতার জন্য আমি নিজেকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে গেছি।’
