হোম আন্তর্জাতিক রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানটির চাহিদা পূরণে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চায় দেশটির সরকার। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন কর্মকর্তারা।

বুধবার (৮ জুন) ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে আমদানি কমিয়ে সরাসরি দেশীয় কোম্পানিগুলো থেকে পরমাণু জ্বালানি কেনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর জন্য ইতোমধ্যে মার্কিন কংগ্রেস থেকে ৪.৩ বিলিয়ন ডলার অর্থছাড়ের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন।

প্রতিবেদন মতে, এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সরকারের জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, বৈঠকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তহবিল ছাড়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তারা।

কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে এটাও জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার ইউরেনিয়ামের সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হলে দেশের বাণিজ্যিক পরমাণু চুল্লিগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ কারণে প্রস্তাবে সর্বাগ্রে ইউরেনিয়ামের মজুদ বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে সরকারের জন্য দেশীয় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সরাসরি ‘সমৃদ্ধ’ ইউরেনিয়াম ক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এবং একটা পর্যায়ে রাশিয়ার ইউরেনিয়াম আমদানির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এর প্রতিক্রিয়ায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে মস্কোর উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হোয়াইট হাউস যেন রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেয় তা নিশ্চিত করতে তদবির শুরু করে মার্কিন পরমাণু বিদ্যুৎখাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের দাম কম রাখার ক্ষেত্রে সস্তায় ইউরেনিয়াম কেনাই মূল ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়ামের প্রায় অর্ধেকই আসে রাশিয়া, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে। ২০২০ সালে এ তিনটি দেশ থেকে তাদের কেনা ইউরেনিয়ামের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ কেজি। ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য মতে, ওই ইউরেনিয়াম থেকে ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুতের প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

ইউক্রেন অভিযানের পরও ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা মস্কোর ওপর ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও এখন পর্যন্ত ইউরেনিয়াম আমদানি ও এ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে ছাড় দেয়া হয়েছে। এই ছাড় অব্যাহত রাখতে মার্কিন পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক গোষ্ঠী দ্য ন্যাশনাল এনার্জি ইনস্টিটিউট (এনইআই) তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউরেনিয়াম মূলত পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ হয় না। তবে একাধিক মার্কিন কোম্পানি বলে আসছে, বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানিগুলো যদি দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তিতে আসে তাহলে তারা অভ্যন্তরীণভাবে ইউরেনিয়াম উৎপাদন পুনরায় শুরুর ব্যাপারে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও ওয়াইয়োমিংয়ের খনিগুলোতে ইউরেনিয়ামের বড় ধরনের মজুদ আছে।

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মজুদও বিশাল। এছাড়া ইউরোপের অনেক দেশের ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা রয়েছে। তরে রাশিয়া ও তার দুই দেশ মিত্র কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানই সবচেয়ে সস্তায় ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে।

রাশিয়ার ইউরেনিয়াম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটম। ২০০৭ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত এই কোম্পানিটি গঠন করেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কোম্পানিটি রাশিয়ার রাজস্ব আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসও।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালে কৌশলগত ইউরেনিয়াম মজুদের জন্য ১৫ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব করেন। ওই পরিকল্পনায় জো বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সমর্থন আছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলো এখন রাশিয়ার বাইরে থেকে পরমাণু চুল্লির জ্বালানি আনা যায় কি না, তা খোঁজা শুরু করেছে।

সুইডিশ বিদ্যুৎ কোম্পানি ভেটেনফল এবি কয়েকদিন আগে ইউক্রেন সংঘাতকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত তাদের পরমাণু চুল্লির জন্য রাশিয়ার ইউরেনিয়াম কেনা বন্ধ রেখেছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন