হোম আন্তর্জাতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় কি ঘুরে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

রুশ বাহিনীর দখলে থাকা খারকিভের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর কুপিয়ান্সক ও ইজিয়াম পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে ইউক্রেন। গত কয়েকদিনে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অঞ্চলগুলো ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছে মস্কোও। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানায়, রুশ সেনাদের হটিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল মিলিয়ে ১ হাজার বর্গ কিলোমিটারের বেশি এলাকা এরইমধ্যে দখলমুক্ত করেছেন তারা। এরমধ্যে খারকিভের গুরুত্বপূর্ণ দুই শহর কুপিয়ান্সক ও ইজিয়াম রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ওড়ানো হয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় পতাকা।

রুশ বাহিনীর দখলে থাকা অঞ্চল পুনরুদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, তাদের সেনারা খারকিভ অঞ্চলের ৩০টির বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সামরিক বাহিনীকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে পুরো এলাকা আবারও পুনর্দখল করে নেয়া হবে। ওড়ানো হবে ইউক্রেনের জাতীয় পতাকা।

এদিকে, ইউক্রেনের বালাকলিয়া, ইজিয়ুম ও খেরসেন অঞ্চল থেকে রুশ সেনাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মস্কো জানায়, রুশপন্থি সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাসহ সামরিক অভিযান নতুন করে ঢেলে সাজাতেই ওই অঞ্চলগুলো ছেড়ে দিয়েছে তারা। এ অবস্থায় সেখানে নিজেদের এগিয়ে নিতে সৈন্য সংখ্যা আরও বাড়াচ্ছে রাশিয়া। শনিবার খারকিভের বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় চলে রকেট হামলা। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, খারকিভ বা তার আশপাশের অঞ্চলে রুশ সরবরাহ লাইন ভেঙে দিতে পারলে বেকায়দায় পড়বে রাশিয়া। এতে করে অনেক রুশ সেনা অবরুদ্ধও হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ইজিয়াম শহরটি ইউক্রেনের দখলে আসলে তা রুশ সেনাদের ভোগান্তি কয়েকগুণ বাড়াবে।

খারকিভে পিছু হটার মধ্যেই শনিবার মস্কোর ঐতিহাসিক রেড স্কয়ারে আতশবাজির আয়োজন করা হয়। রাজধানী ঘোষণার ৮৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ মনোমুগ্ধকর আতশবাজির পাশাপাশি দিনটি উপলক্ষে গালা নাইটে বক্তব্য দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন