হোম জাতীয় রাজধানীতে বিদ্যুৎ লাইন যেন মৃত্যুফাঁদ, ঘটছে দুঘর্টনা-প্রাণহানি

জাতীয় ডেস্ক :

রাজধানীতে ঝুঁকিপূণ ট্রান্সফরমার আর অরক্ষিত বিদ্যুৎ লাইন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঘটছে একের পর এক দুঘর্টনা-প্রাণহানি। নিমতলীর ভয়াবহ আগুন থেকে শুরু করে চকবাজার চুড়িহাট্টা কিংবা দেবিদাস ঘাট লেনের বরিশাল হোটেলের ঘটনা ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ অথবা শর্ট সার্কিট থেকে। সবশেষ রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) যাত্রাবাড়ীর আগুনের সূত্রপাতও একই কায়দায়।

বাসিন্দারা বলছেন, যখন-তখন ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটবে। সেটা তো ভয়ের ব্যাপার। এর জন্য সুরক্ষা দরকার। বিষয়গুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্য বলছে, দেশে অগ্নিদুর্ঘটনার ৭০ শতাংশই বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট। ঢাকা মেডিকেল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, শুধু ২০১৭ সালে হাসপাতালটিতে ১৭ হাজার মানুষ বিদ্যুৎ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। যাদের মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ৩৬৪ জনের।

পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পযন্ত ত্রুটিপূর্ণ লাইন ও ট্রান্সফরমারের কারণে ১৩৫ জন লাইনম্যান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। যার মধ্যে ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ২১ জন।

দুর্ঘটনার এমন পরিস্থিতির কারণে জনবহুল এলাকাগুলো অপরিকল্পিত বিদ্যুতের সরবরাহ লাইন স্থাপন, অবৈধ সংযোগকে দুষলেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান। বিতরণ লাইন রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমরা এখন বিদ্যুতের লাইন আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যাচ্ছি। এটা করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিরাপদ হবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কর্তৃপক্ষের ওপর দায় না চাপিয়ে দুর্ঘটনা রোধে সচেতন হবে নাগরিকদেরও।

অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে আবাসিক বাণিজ্যিক সব ভবনেই নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও তাগিদ তাদের।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন