জাতীয় ডেস্ক :
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বখাটেদের মারধরের শিকার হয়ে বাবু (২৮) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকেল মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবু ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার ঝিটকা গ্রামের মৃত শরবত আলির ছেলে। তিনি ঢাকা উদ্যান ৫ নম্বর রোডের সি ব্লকের একটি নির্মাণাধীন ভবনে রাজমিস্ত্রি কাজ করতেন। সেখানেই থাকতেন বাবু।
বাবুর বন্ধু মো. ইয়াসিন হাওলাদার জানান, বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে তাদের বন্ধু সাগর ও তসলিম ঢাকা উদ্যান সংলগ্ন তুরাগ নদীর পারে যান ঘুরতে। তখন স্থানীয় বখাটে নয়ন, বাবু-২, রাসেল, রুবেল ও ফালান তাদেরকে মারধর করে। এ সময় তাদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোনও হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বখাটেরা। তখন তারা বাবুকে ফোন করে বিষয়টি জানালে বাবু দৌড়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং তাদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেন। তখন ওই বখাটেরা বাবুকেও মারধর করে। বখাটেদের মধ্যে নয়ন বাবুর তলপেটে লাথি দেয়। এতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অন্য বন্ধু ও সহকর্মীরা মিলে তাকে উদ্ধার করে বিকেলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানকার চিকিৎসকরা বাবুকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন।
সহকর্মীরা আরও জানান, ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পর কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেন। আজকে দুপুরে সে হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল বাবু। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। তার পরিবারের সবাই গ্রামে থাকেন। কয়েক বছর ধরে তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এরপর চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্তের জন্য মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
