জাতীয় ডেস্ক :
দূর থেকে দেখে মনে হলো রাস্তার পাশে বানিয়ে রাখা নৌকার মাঝে কেউ একজন বসে আছেন। কাছে গিয়ে ভুল ভাঙল। মোটরসাইকেলটিকে রীতিমতো নৌকায় রূপ দিয়েছেন এক বৃদ্ধ। তাকে ঘিরে মানুষের ছোটখাটো জটলাও তৈরি হয়েছে। বক্সে গানও বাজাচ্ছেন তিনি।
কৌতূহল থেকে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, তার নাম শহর আলী। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাগুরা থেকে মাওয়া এসেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকালে তিনি ফজরের নামাজ পড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। বিকেল নাগাদ পৌঁছান শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে। সেখানে রাত কাটিয়ে শুক্রবার চলে আসেন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি যেতে চান।
তিনি তার নিজের মোটরসাইকেলটিকেই কাঠ দিয়ে নৌকার আদলে রূপ দিয়েছেন। তার ভেতরেই রাতে ঘুমিয়েছেন।
পদ্মা সেতু নিয়ে শহর আলীর আবেগের শেষ নেই। তার স্বপ্ন ছিল মৃত্যুর আগে পদ্মা সেতুতে ওঠার। সেই স্বপ্ন তার পূরণ হতে চলেছে। চোখে-মুখে ছিল দারুণ তৃপ্তি।
নিজের স্মৃতিচারণা করে শহর আলী জানান, আগে ঢাকা আসতে-যেতে কত কষ্ট করতে হতো। একবার তো নদীর প্রচণ্ড ঢেউয়ে স্রোতে লঞ্চ ডুবে যাচ্ছিল, অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি।
পদ্মা সেতু বানানোর খবর শোনার পর থেকেই তার মনে সারাক্ষণ দোলা দিত, পদ্মা সেতুতে ছুঁয়ে দেখার। খুব করে চাইতেন মৃত্যুর আগে একবার হলেও পদ্মা সেতুতে চড়ার। সেই স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে।
পদ্মা সেতু নিয়ে তার উৎসাহের শেষ নেই। সেতুর প্রতিটি মুহূর্তের খোঁজ তিনি রেখেছেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়গড় করে সব বলে যেতে লাগলেন। তিনি বলেন, ‘নয় মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। তেমনি দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু আজ বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। পদ্মা সেতু আমাদের গৌরব।’
শহর আলী বৃহস্পতিবার জাজিরা প্রান্তে থাকলেও শুক্রবার চলে এসেছেন মাওয়া ঘাটে। এখানেই উদ্বোধন হয়েছে পদ্মা সেতুর।
চার ছেলের জনক শহর আলী। পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং শিল্পী। তিনি গান লেখেন এবং সেসব গানে নিজেই সুর দেন। ১০০-র বেশি গান লিখেছেন এবং সেসব গানে সুরও দিয়েছেন।
গান গেয়ে শোনাতে বলতেই তার চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নিজের বক্সটাকেই তবলা বানিয়ে তিনি নেচে গান শুরু করেন…
‘জুন মাসের ২৫ তারিখ
বাংলাভাষীর মুখের হাসি
ঘরে ঘরে দেখতে আমরা পাই
সবার ঘরে শুনতে আমরা পাই
চলো আমরা মাওয়ার ঘাটে যাই….’
