আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে আজ রায় দেবেন আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরের আইসিজে এ রায় ঘোষণা করবেন। তবে নিজেদের যৌক্তিক প্রমাণ না থাকায় মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা। খবর আল-জাজিরা।
রোহিঙ্গা গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমারের আপত্তি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের রায় শুক্রবার (২২ জুলাই)। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে আইসিজের বর্তমান সভাপতি দোয়ান-এ-দোনোঘুর সভাপতিত্বে এ বিষয়ে একটি রুল জারি করা হবে। কোভিড বিধিনিষেধের কারণে শুধু মামলার দুপক্ষের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে, ক্ষমতা দখলের পর রোহিঙ্গা গণহত্যার বিভিন্ন প্রমাণ থাকার পরও অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এমনকি আদালতের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে তোলে প্রশ্ন, গাম্বিয়ার কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় মামলার অধিকার নিয়েও আপত্তি জানায় মিয়ানমার। এর মধ্যেই আইসিজে-তে মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তির ওপর গণশুনানি শুরু হয় চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি। মাসব্যাপী চার দফায় মিয়ানমারের আপত্তি বিষয়ে মিয়ানমার ও গাম্বিয়া উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি যুক্তি উত্থাপিত হয়। সে সময় শুনানিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করেন জান্তা সরকারের আন্তর্জাতিক সহায়তা মন্ত্রী কো কো লাইং।
এদিকে, অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এলেও নিজেদের যৌক্তিক প্রমাণ না থাকায় মিয়ানমারের আপত্তি খারিজের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের।
গ্লোবাল জান্টিস সেন্টার সভাপতি আকিলা রাধাকৃষ্ণ বলেন, মিয়ানমারের আপত্তি খুব সম্ভবত আইসিজে প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছে। যদি খারিজ হয়, সে ক্ষেত্রে আদালত মামলাটি পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তারপর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ বিবেচনায় এনে আদালত পরবর্তী কাজ শুরু করবেন।
এর আগে, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা ও গণহত্যার শিকার হন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওআইসির সহযোগিতায় ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে গণহত্যার মামলা করে গাম্বিয়া।
