হোম আন্তর্জাতিক মিজোরাম সীমান্তে মিয়ানমারের বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘেষে বিমান হামলা চালিয়েছে মিয়ানমার। সীমান্ত লাগোয়া মিয়ানমারের চিন প্রদেশে গণতন্ত্রপন্থি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একটি ক্যাম্প টার্গেট করে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুটি বোমা ভারতীয় অংশে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

এখন থেকে দুই বছর আগে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে অন্যান্য অঞ্চলের মতো চিন প্রদেশেও জান্তা বাহিনী ও গণতন্ত্রপন্থি সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে। এই অঞ্চলে গণতন্ত্রকামী বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন চিন ন্যাশনাল আর্মির (সিএনএ) সদর দফতর রয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর নাগাদ গোষ্ঠীটির ওই সদর দফতর লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে মিয়ানমারের বিমানবাহিনী। বুধবার (১১ জানুয়ারি) পর্যন্ত ওই হামলা চলে। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এ হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তবে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, মিজোরাম সীমান্তে বিদ্রোহীদের ক্যাম্প লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা চিন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন জানায়, হামলায় অন্তত ৫ বিদ্রোহী নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, হামলার সময় অন্তত একটি বোমা ভারতীয় অংশে পড়ে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সীমান্তের কাছের একটি নদী তীরে থাকা একটি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানও খবরটি নিশ্চিত করে। জানায়, বোমা ফেলা হয়েছে ভারতের মিজোরামের ফারকাওয়ান নামক এক গ্রামে। এতে কেউ হতাহত না হলেও ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ভারতীয় অংশে বোমা পড়ার খবর নাকচ করে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী আসাম রাইফেলস। এই বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতের মাটিতে কোনো বোমা ফেলা হয়নি। কোনো বিস্ফোরণ হয়নি। তবে সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক সীমানার ওপারে একাধিক বিস্ফোরণ হয় বলে নিশ্চিত করে তারা।

মিজোরামের রাজধানী আইজলে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) বলেন, বোমা হামলা সম্পর্কে অস্পষ্ট তথ্য রাজ্য সরকারের কাছে এসেছে। যত দূর জানা গেছে, ওই হামলা হয়েছে মিজোরাম লাগোয়া মিয়ানমারের ভেতরে চিন প্রদেশে।

মিয়ানামারে গণতন্ত্রের দাবিতে যেসব বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সক্রিয়, তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সিএনএ। গণতন্ত্রকামী বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোর সংগঠন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের নেতৃত্বে লড়াই করছে সিএনএসহ সব সশস্ত্র বাহিনী।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন