রিপন হোসেন সাজু, মণিরামপুর (যশোর) :
দলের মনোনীত প্রার্থী হতে চেষ্টায় মাঠে নেমেছেন মণিরামপুরের ১৬টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিএনপিসহ অন্য দলের প্রার্থীদের নড়-চড় দেখা না গেলেও সরব হয়ে উঠেছেন আওয়ামীলীগ দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নিজ নিজ এলাকায় বিল-বোর্ড, পোস্টার ছাড়াও দলের নীতি নির্ধারকদের মনজয় করতে সব চেষ্টা করে চলেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
এসব সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভাবনা-দলের মনোনীত প্রার্থী হলেই তো চেয়ারম্যান! এ জন্য নেতাদের নজর কাড়তে অনেকেই নীতি নির্ধারকদের দপ্তরে দৌড়ছুট সহ এলাকায় বিল বোর্ড সেটে চলেছেন। কেউ কেউ দান খয়রাত করে সোস্যাল মিড়িয়ায় ছড়াচ্ছেন। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন সম্ভাব্য সময় মাথায় নিয়েই এসব প্রার্থীদের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন। নিজের অবস্থান জানান দিতে এলাকায় দলীয় যুবক শ্রেণীর ব্যক্তিদের ব্যবহার করছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা একে অন্যের প্রতিপক্ষ হিসেবেই বলায় গড়ে তুলছেন। এক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাই এগিয়ে। ১৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শতাধিক দলীয় প্রার্থী বর্তমানে এ সারিতেই অবস্থান করছেন।
রোহিতা: বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা সরদার আনছার আলী আবারও প্রার্থী হতে নতুন করে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। আনছার আলী বর্তমান ছাড়াও এর আগেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এই ইউনিয়ন থেকে। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান তিনিও প্রার্থী হবেন। দলীয় প্রার্থী হতে আগের থেকেই সব চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি প্রভাষক আলাউদ্দীন লিটন, আওয়ামীলীগ নেতা আক্তার হোসেন, আব্দুল কাদের বিশ্বাস, শেখ আবুল হোসেনও। এলাকায় সাধারণ ভোটারদের ছাড়াও দলের নীতি নির্ধারকদের কাছে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তারা।
কাশিমনগর: এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন কুমার দাস, আইন বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস, আসমা খাতুন লাকি নির্বাচন করতে আগাম চেষ্টা করে চলেছেন।
সম্ভাব্য এই প্রার্থীদের মধ্যে স্বপন কুমার দাস গত নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী জিএম আহাদ আলীর সাথে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে ১২০০ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার তিনি আগে ভাগেই মাঠ গড়ে চলেছেন। বসে নেই সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম।
দলীয় প্রার্থী হয়ে তৌহিদুল ইসলাম এই ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন একবার। এবার তিনি মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। বসে নেই আইন বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস। এলাকাবাসীর কাছে প্রিয় এই নেতা দলীয় প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন এমন চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। গাছে গাছে বিল বোর্ড সেটেছেন আসমা খাতুন লাকি। তিনি সবার দোয়া চেয়ে এলাকায় বিল বোর্ড সেটে ছয়লাভ করেছেন।
ভোজগাতী: বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শরিফুল ইসলাম নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। দলীয় প্রার্থী হতে সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে তাদের। জনপ্রিয় এই তিন নেতায় দলীয় প্রার্থী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ তিন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দলীয় প্রার্থী হিসেবে এর আগেও একাধিকবার নির্বাচন করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন। তরুন প্রার্থী শরিফুল ইসলাম রিপন। এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম জোর চেষ্টা করে চলেছেন দলীয় প্রার্থী হতে।
ঢাকুরিয়া: বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এরশাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা বাবলু সিংহ ও আইয়ুব আলী গাজী নৌকা প্রতীক নিয়ে এবার নির্বাচন করতে জোর চেষ্টা করে চলেছেন। এদের মধ্যে এরশাদ আলী বর্তমান ছাড়াও এর আগেও দলীয় প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার দলের সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর ভিড়ে তিনিও হাল ছাড়ছেন না।
হরিদাসকাটি: বর্তমান চেয়ারম্যান ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বিপদ ভঞ্জন পাড়ে, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শরিফ লিটন, যুবলীগ সভাপতি দিনবন্ধু রায় এবং সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা নিরঞ্জন প্রসাদ আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
মণিরামপুর সদর: উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বর্তমান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মিল্টন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায় আলহাজ্ব এয়াকুব আলী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শাহিন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী এয়াকুব আলী গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপির দলীয় প্রার্থী নিস্তার ফারুকের সাথে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে পরাজিত হন। বর্তমানে প্রভাবশালী সম্ভাব্য এ চার প্রার্থী দলীয় প্রার্থী হতে জোর তদবীর চালাচ্ছেন।
খেদাপাড়া: ই্উনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আলিম জিন্নাহ, বর্তমান চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল হক, হাবিবুর রহমান ভোলা, এরশাদ আলী এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। এদের মধ্যে আব্দুল আলিম জিন্নাহ নৌকা প্রতীক নিয়ে একাধিক নির্বাচন করেছেন। এবারও আব্দুল আলিম জিন্নাহ আশাবাদী তিনিই নৌকা প্রতীকের প্রাথী হবেন।
ঝাঁপা: বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা শামসুল ইসলাম মন্টু, থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তরুন আওয়ামীলীগ নেতা স ম আলাউদ্দীন, রবিউল ইসলাম, আবুল বাশার ও সিরাজুল ইসলাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। এদের মধ্যে স ম আলাউদ্দীন ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই ভোটার দ্বারে দ্বারে নিয়মিত গনসংযোগ করে চলেছেন।
মশ্বিমনগর: বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফেরদৌস রানা, আশরাফুল আলম স্বপন, শামীম হোসেন ও ইকবাল হাসান শাহিন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
চালুয়াহাটি: বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার, জেলা পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম মিলন, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আবুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হাই, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক প্রভাষক হাসান আলী এবং যুবলীগের সভাপতি ইমরান খান পান্না সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এদের মধ্যে কৃষকলীগ নেতা আবুল ইসলাম গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী সরদার আব্দুল হামিদের নিকট ভরাডুবি হয় তার। এবারও চেষ্টা করছেন দলীয় প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে।
শ্যামকুড়: ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, আওয়ামীলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন, নজরুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী হতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
খানপুর: ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিলন, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খান মিঠু, আওয়ামীলীগ নেতা প্রভাষক হাবিবুর রহমান, মিলন কুমার ঘোষাল সম্ভাব্য এ প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থী হতে জোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
দূর্বাডাঙ্গা: আওয়ামীলীগ নেতা নেহালপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ চ ল ভট্টাচার্য্য, বর্তমান চেয়ারম্যান মাযহারুল আনোয়ার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, আওয়ামীলীগ নেতা ডা. আতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবোদ কুমার সরকার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর রহমান লাভলু সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন এমন চেষ্টা করে চলেছেন তারা।
কুলটিয়া: বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখর চন্দ্র রায়, সভপতি প্রনয় চৌধুরী ও ব্যাংকার আদিত্য রায় নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন এমন চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এলাকায় গনসংযোগ ছাড়াও দলের নীতি নির্ধারকদের কাছে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তার।
নেহালপুর: জেলা পরিষদের সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক হুসাইন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রুহল আমিন, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ও সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা নৌকা নিয়ে নির্বাচন করবেন এমন প্রস্তুতি নিয়ে চলেছেন সকল ক্ষেত্রে।
মনোহরপুর: বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মাস্টার মশিয়ূর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কালিপদ মন্ডল ও সাবেক চেয়ারম্যান বিএম মোস্তাফ মহিতুজ্জামান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামীলীগ দলীয় সম্ভাব্য এসব প্রার্থীরা এলাকায় গনসংযোগ ছাড়াও মানুষের নজর কাড়তে বিল বোর্ড এবং পোষ্টার সেটেছেন এলাকায়। অবস্থা দৃষ্টে মনে করা হচ্ছে তফশীল ঘোষনা না হলেও এসব অ লে যেন নির্বাচনী আমেজ তৈরী হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ভোটারদের মাঝে।
