জাতীয় ডেস্ক :
দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে রাতের ঢাকা। ছিনতাই কিংবা ডাকাত চক্রের খপ্পরে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকেই। ঘটছে প্রাণহানিও। গত এক মাসে শুধু রাজধানীতেই ঘটেছে অন্তত ১০টি ডাকাতির ঘটনা। প্রাইভেট কার কিংবা বাস ভাড়া করে ডাকাতরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
২৩ জানুয়ারি, ভোর ৪টা ৪৫ মিনিট। মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার আবুল হোটেলের সামনে থামে প্রাইভেট কারটি। গাড়ি থেকে নেমে তিন-চারজন গতিরোধ করে ফুটপাত ধরে এগিয়ে আসা এক ব্যক্তির। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে তার সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ডাকাতির শিকার ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় সময় সংবাদের। তিনি জানান, নিউইয়র্কভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও বের হয়েছিলেন অফিসের উদ্দেশে।
তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু নিউইয়র্কের একটি আইটি কোম্পানিতে কাজ করি, তাই ওদের সময় অনুযায়ী আমাকে নাইট শিফটে কাজ করতে হয়। অফিস শেষে যখন বাড্ডা থেকে ফিরছিলাম, আবুল হোটেলের সামনে পৌঁছালে সিলভার কালারের একটি প্রাইভেট কার থেকে প্রথমে দুজন নেমে আমার পেটে চাপাতি ধরে। পরে গাড়ি থেকে আরও দুজন নেমে আমার মোবাইল, মানিব্যাগ, ক্রেডিট কার্ড ও সঙ্গে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যায়।’
ওই রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় একই ডাকাত চক্রের কবলে পড়েন আরও এক ব্যক্তি ।
তিনি বলেন, ‘আমি একটা পরিবহন কোম্পানিতে কাজ করি। ভোর পৌনে ৬টার দিকে অফিসের দিকে যাচ্ছিলাম পল্টন থেকে। পথে জোনাকি সিনেমা হলের সামনে পৌঁছালে একটি সিলভার কালারের প্রাইভেট কার থেকে প্রথমে দুজন নেমে আমার গলায় ও পেটে চাপাতি ধরে। পরে গাড়ি থেকে আরও দুজন নেমে আমার মোবাইল, মানিব্যাগ নিয়ে যায়। এ সময় তারা চাপাতি দিয়ে আমার মাথায় আঘাতও করেছে।’
এখানেই শেষ নয়, ওই রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত দুই ভারতীয় শিক্ষার্থীও এই একই চক্রের শিকার হন। ওই দুই শিক্ষার্থীর করা মামলা তদন্ত করতে গিয়েই সামনে আসে রাতের ঢাকা দাপিয়ে বেড়ানো ডাকাত চক্রটি। গ্রেফতারও করা হয় সাত ডাকাতকে।
পুলিশ বলছে, ২২ জানুয়ারি রাত ১১টা থেকে ২৩ জানুয়ারি ভোর পর্যন্ত শুধু রাজধানীতেই চারটি ডাকাতির তথ্য পেয়েছে তারা। আরও বেশিও হওয়ার আশঙ্কা তাদের।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ওই রাতে তারা মোট চারটি ছিনতাই করেছে। এর বেশিও হতে পারে। প্রতিটি ছিনতাই তারা খুবই লোমহর্ষকভাবে করেছে। একই গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। তারা গাড়ি থেকে লোকজনকে ফলো করে ও সুযোগ বুঝে গাড়ি থেকে নেমে ছিনতাই করে। এ ধরনের কার্যক্রম তারা প্রতি সপ্তাহে করে আসছিল। অথচ ধরা পড়েছে তারা অনেক পরে এসে।
গত এক মাসে শুধু রাজধানীতেই অন্তত ১০টি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ধরনের আরও ঘটনা থাকতে পারে, যা হয়তো থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি। তবে তাদের গবেষণা বলছে, মূল কারণ তিনটি।
এ বিষয়ে সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, এদের মধ্যে অনেকেই মাদকাসক্ত। একটি শ্রেণি রয়েছে, যাদের কোনো কর্ম নেই। এ ছাড়া অপর একটি শ্রেণি রয়েছে, তারা কাজ করতেও ইচ্ছুক নয়; বরং এসব করেই চলতে চায়। কেননা, অল্প কাজ করেই অনেক বেশি টাকা পাচ্ছে তারা।
রাতের ঢাকায় ছিনতাই কিংবা ডাকাতির মতো অপরাধ রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি আরও বেশি সতর্কতার বিকল্প নেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
