বাণিজ্য ডেস্ক :
রমজান শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে পাইকারি পর্যায়ে কমেছে অধিকাংশ ভোগ্যপণ্যের দাম। চাহিদার তুলনায় ব্যাপক সরবরাহের পাশাপাশি ক্রেতাসংকটে দ্রব্যমূল্য কমেছে। প্রতি কেজি ছোলায় ৫ টাকা, রসুন ও পেঁয়াজে ৪ টাকা করে কমেছে। তবে সরকারিভাবে নানা ছাড় দিয়েও ভোজ্যতেলের কারসাজি বন্ধ করা যায়নি। স্লিপ জটিলতায় মিল মালিকরা খোলা তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের। এদিকে সরকার ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা দাম কমাতে বাধ্য হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে ক্যাব।
স্লিপবিহীন তেল বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ আরোপের কারণে খোলা ভোজ্যতেল নিয়ে নতুন করে কারসাজি শুরু হয়েছে। সাধারণ পাইকারি ব্যবসায়ীরা স্লিপ ছাড়া তেল কিনতে রাজি না হওয়ায় বাজারে খোলা তেল বিক্রি এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। বেশি লাভের আশায় মিল মালিকরা স্লিপ ছাড়াই তেল বিক্রিতে আগ্রহী। কিন্তু পাইকাররা ভ্রাম্যমাণ আদালতের জটিলতা এড়াতে স্লিপ ছাড়া তেল না আনায় বাজারে আবারও তেলের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। খোলা তেলের দাম মণপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বেড়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স আব্বাস সওদাগরের মালিক মোহাম্মদ আব্বাস আলী বলেছেন, ‘স্লিপ না দেওয়ার কারণে আমরা পণ্য আনতে পারছি না। বর্তমানে সয়াবিন, সুপার ও পাম অয়েল আমাদের কাছে নেই। মিল থেকে আমাদের মেমো দিচ্ছে না। মেমো না দিলে আমরা বিক্রি করব কীভাবে?’
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স এ এম এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহমুদুল আলম লিটন বলেন, ‘আগে যে এসওগুলো ছিল, সেগুলো কেনার জন্য আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাই সেগুলোই সরবরাহ হচ্ছে। তারা আমাদের নতুন করে কোনো এসও দিচ্ছে না। অল্প অল্প করে দিচ্ছে, আমরা সেগুলোই সরবরাহ করছি।’
পবিত্র রমজানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাড়ে ছোলার। তাই সুযোগ বুঝে বাজারে পণ্যটির দাম বাড়ানোর কারসাজি চলে। কিন্তু রোজা শুরুর আগমুহূর্তে ধস নেমেছে ছোলার বাজারে। প্রকারভেদে সব ধরনের ছোলার দাম কেজিতে কমেছে ৫ টাকা।
ছোলার দাম কমে যাওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স সালমা ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার জুয়েল মহাজন বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ছোলার দাম কেজিতে প্রায় ৭ টাকা কমেছে। চাহিদার তুলনায় আমাদের সরবরাহও প্রচুর।’
এদিকে দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসার মৌসুমে ভারত এবং মিয়ানমার থেকেও ব্যাপক হারে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর প্রভাবে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২২-২৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। রসুনের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা কমলেও সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে প্রতি কেজি আদার দাম। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স ওছি উদ্দিন সওদাগরের মালিক রুহুল আমিন রিগ্যান বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে আদার দাম ২-৩ টাকা বেড়েছে। রসুনের দাম কমেছে ৫-৭ টাকা।
মূলত সরকার ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করায় বাজারে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের দাপট কিছুটা কমছে। এর ফলেই বাজারে অনেক পণ্যের মূল্য কমেছে বলে মনে করছে ক্যাব।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে চট্টগ্রাম ক্যাব সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার এক কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ী মূলে টিসিবির পণ্য দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের আওতায় বেশ কিছু বাজারে তদারকি করা হচ্ছে; এ দুটির কারণে আমরা বাজারে ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাচ্ছি। পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে অনেক পণ্যের দামই কমেছে।
এদিকে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম প্রতি কেজিতে কমেছে ১ টাকা করে।
