আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পূর্ব লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ ও ডোকলামের পর এবার ভারত মহাসাগরে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে চীনের নৌবাহিনী। শুধু তাই নয়, একটি সামরিক ঘাঁটিও তৈরি সম্পন্ন করেছে। যা এখন পুরোমাত্রায় সক্রিয়। ওই ঘাঁটি থেকেই পুরো ভারত মহাসাগর অঞ্চলে মোতায়েন চীনা যুদ্ধজাহাজগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। চীনা নৌবাহিনীর এসব তৎপরতা উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে।
ম্যাক্সারের একাধিক উপগ্রচিত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) ম্যাক্সার বেশ কিছু উপগ্রহচিত্র প্রকাশ করে। চিত্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলের জিবুতিতে একটি নৌঁঘাটি গড়েছে চীন। এ নৌঘাঁটি থেকেই ভারতকে টার্গেট করে ভারত মহাসাগরে নতুন ‘মিশন’ শুরু করেছে বেইজিং।
জিবুতির ওই নৌঁঘাটিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, নয়াদিল্লিকে ‘নিশানা’ করেই ভারত মহাসাগরে এই তৎপরতা চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ)।
জিবুতির নৌঘাঁটি দেশের বাইরে চীনের প্রথম সামরিক ঘাঁটি। গত এক দশক ধরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথে অবস্থিত বাব-এল-মান্দেব প্রণালী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। তারই অংশ হিসেবে ৫৯ কোটি ডলার (প্রায় ৪,৭০৭ কোটি টাকা) ব্যয়ে ওই নৌঘাঁটি তৈরি করা করেছে তারা। ২০১৬ সালে এটি নির্মাণকাজ শুরু হয়।
সামরিক কৌশলগত দিক থেকেও জিবুতির এ নৌঘাঁটির অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এডেন উপসাগর থেকে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালমুখী জলপথের বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে অবস্থিত এই নৌঘাঁটি থেকে আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে উপস্থিতি জানান দেয়ার জন্য জিবুতির নৌঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে চীনের নৌবাহিনী। ভারত মহাসাগরের পাশাপাশি আরব সাগরের জলসীমায় ঢুকে চাপে ফেলতে পারবে নয়াদিল্লিকে।
উপগ্রহচিত্র দেখে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ফ্রিগেট, কর্ভেট জাতীয় রণতরী ও উভচর সামরিক যান (অ্যাম্ফিবিয়ান ল্যান্ডিং ভেহিকলস) ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে ওই নৌঘাঁটিতে। নৌ-নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘কভার্ট শোরস’র বিশেষজ্ঞ এইচএল সাটন বলেন, ‘ঔপনিবেশিক সময়ের বন্দরে ধাঁচে ওই ঘাঁটিটি গড়ে তোলা হয়েছে। অবস্থান ও আয়োজন থেকে এটা স্পষ্ট যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে নৌঘাঁটিটি।’
নয়াদিল্লির আপত্তি সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কায় হাম্বানটোটা বন্দরে ভিড়েছে চীনা জাহাজ ‘ইউয়ান ওয়াং-৫’। জাহাজটি নোঙর করার পর ভারতের উপর চাপ বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরে চীনের নতুন তৎপরতা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
