হোম জাতীয় বৃষ্টি না কমলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি হবে না, সাফ জানালেন আতিক

জাতীয় ডেস্ক :

রাজধানীতে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু।

এখন গড়ে দৈনিক আক্রান্ত হচ্ছেন আড়াই শতাধিক। আগস্টের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেওয়া উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম এখন বলছেন, বৃষ্টি না কমলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। মশা মারায় মান্ধাতা আমলের ওষুধ ও পদ্ধতি ব্যবহারের কারণেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা শিশু হাসপাতালে খালি নেই আইসিইউ। চোখের সামনে ছটফট করতে থাকা ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানের জন্য কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না টঙ্গী থেকে আসা রাফেয়া নামে এক নারী।

গত কয়েকদিনে হাসপাতালগুলোর চিত্র এমনই। অভিভাবকদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে সীমাহীন উদ্বেগ আর অসহায়ত্বে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, প্রতিদিন গড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন ২৬০ জন।

এদিকে মিরপুরে অভিযানে গিয়ে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বললেন, আবহাওয়ার কারণে এতটা বেসামাল ডেঙ্গু পরিস্থিতি। সেই সঙ্গে এডিস নিধনে মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি আর ওষুধের ব্যবহারকেও দুষলেন মেয়র আতিক।

মেয়র বলেন, রোদ এবং বৃষ্টি এই আবহাওয়াটা ডেঙ্গু মশা জন্মানোর জন্য খুবই উত্তম সময়। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো আধুনিক ওষুধ আনতে পারিনি। এটি কিন্তু আমাদের ব্যর্থতা। এই মুহূর্তে আমাদের সবার আগে প্রয়োজন সবারি নিজ নিজ বাসা পরিষ্কার রাখা।

চিকিৎসকরা বলছেন, সোরোটাইপ থ্রি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় শিশুদের অবস্থা দ্রুতই খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, প্রথম তিনদিন জ্বর থাকার পর সেটা সেরে যাচ্ছে, তখন এটাকে আর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু তিনদিন পর শিশুদের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক বিষয়টি দেখা দিচ্ছে। এখন আমরা বলে আসছি এই যে, মহামারি করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়েও সচেতন থাকতে হবে।
আগস্টের প্রথম ২৫ দিনে শুধু শিশু হাসপাতালেই ডেঙ্গু নিয়ে ২২৩ জন ভর্তি হয়েছেন আর মৃত্যু হয়েছে ৯ শিশুর।

ডেঙ্গু হলে যা করবেন

রাজধানীতে কোনাভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু। এখন গড়ে দৈনিক আক্রান্ত হচ্ছেন আড়াই শতাধিক। একদিকে কোভিড রোগীর সংখ্যা কমলেও হাসপাতালগুলোতে এখন ডেঙ্গু রোগীতে পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ডেঙ্গু শনাক্ত হলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি। অথচ অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা বাসাতেই সম্ভব। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

চিকিৎসকরা বলছেন, সোরোটাইপ থ্রি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় শিশুদের অবস্থা দ্রুতই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তবে বয়স্করা কম খারাপ হচ্ছেন। শিশুরা মারাত্বক হয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

তবে নিচের যে কোনো একটি বিপদ চিহ্ন থাকলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

১. প্রচণ্ড পেট ব্যথা ও অত্যাধিক পানি পিপাসা থাকলে।
২. ঘন ঘন বমি বা বমি বন্ধ না হলে।
৩. রক্তবমি বা কালো পায়খানা হলে।
৪. দাঁতের মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত হলে।
৫. ৬ ঘন্টার বেশি সময় ধরে প্রস্রাব না হলে।
৬. প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হলে।
৭. ডায়রিয়া হলে এবং অত্যধিক শারীরিক দূর্বলতা অনুভব করলে।
৮. গর্ভবতী মা, নবজাতক শিশু, বয়স্ক রোগী, ডায়বেটিস ও কিডনি রোগ থাকলে।
৯. শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে গেলে।
এছাড়া আপনার চিকিৎসক যদি আপনাকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে বলে সেক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হবেন।
যদি উপরের কোন বিপদ চিহ্ন না থাকে এবং রোগী মুখে পর্যাপ্ত তরল খাবার খেতে পারে সেক্ষেত্রে রোগীকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।
কী চিকিৎসা দিবেন?
রোগী পূর্ণ বিশ্রামে থাকবে,
স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, ভাতের মাড়, স্যুপ খেতে দিতে হবে।
প্যারাসিটামল ব্যতীত অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ দেয়া যাবে না।
জ্বর কমাতে কুসুম গরম পানি দিয়ে সারা শরীর মুছে দিবেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন