হোম জাতীয় বিয়ে না করেও সংসার, অতঃপর হত্যা

জাতীয় ডেস্ক :

আড়াই বছর ছিল প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে না করেও থেকেছেন একসঙ্গে।

এরপর পারিবারিক কলহ থেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা। কথিত স্বামী নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রেজাউল করিম তরুণীর মরদেহ ট্রাঙ্কে করে তুলে দেয় বাসে। ছয় বছর আগে চট্টগ্রামে এমনই ঘটনা ঘটেছিল। দীর্ঘ সময় তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

রেজাউল করিম স্বপন অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সদস্য। খুলনার তিতুমীর নৌঘাঁটিতে কর্মরত থাকার সময় শম্পা বেগম হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ করতেন। তখনই শম্পা বেগমের সঙ্গে রেজাউলের পরিচয় হয়। গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক।

পরে শম্পা বেগম বিয়ের জন্য চাপ দিলে আসামি স্বপন বদলি হয়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। তবে বিয়ে না করেই ২০১৫ সাল থেকে পাহাড়তলী থানাধীন উত্তর গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেনের টিনশেড বাড়িতে বসবাস করা শুরু করেন তারা। সেখানে থাকার সময় নানা বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ শুরু হলে একপর্যায়ে স্বপন শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শম্পা বেগমকে।

পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, শম্পার অনেক টাকা-পয়সা আছে আর তিনিও সেই সময় একটু সমস্যায় ছিলেন এবং ওই ব্যক্তি যে বিবাহিত সেটি শম্পা জানতেন না। ৩ জুন বিয়ের কথা নিয়ে যখন সমস্যা হয় তখন তার গলার উড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানান তিনি।

এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ বাক্সবন্দি করে তুলে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বাসে। পরে গাবতলী বাস টার্মিনালে আসলে দারুসসালাম থানা পুলিশ এসে অজ্ঞাত পরিচয়ে লাশ উদ্ধার করে দাফন করে।

ঘটনার ছয় বছর পর শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার ইপিজেড এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে একমাত্র আসামি রেজাউল করিম স্বপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এই ঘটনায় নিহতের বাবা সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

পিবিআই জানায়, আসামি রেজাউল করিম দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন