জাতীয় ডেস্ক :
এজলাসে হট্টগোল, বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ তিনজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার দায়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। অশোভন আচরণের শিকার বিচারকের আবেদনের তিন দিন পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দিলেন উচ্চ আদালত। এদিকে আইনজীবী ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে স্থবির রয়েছে জেলা আদালতের কার্যক্রম। তিন দিন ধরে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের সঙ্গে ওইদিন কী ঘটেছিল তার বর্ণনা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে চিঠি লেখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ ফারুক। চিঠিতে বলা হয়, ১ জানুয়ারি বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে এজলাস চলাকালে জেলা বার সভাপতি তানভীর ভূঁইয়া, সম্পাদক আক্কাস আলী ও জুবায়েরসহ ১০ থেকে ১৫ জন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং গালিগালাজ করেন। নেমে যেতে বলেন এজলাস থেকে।
২ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আরেকটি চিঠি দেন বিচারক মোহাম্মদ ফারুক। যে চিঠিতে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করা ১৫ জন আইনজীবীর নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেয়ারও আবেদন করেন।
আইনজীবী ও কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে স্থবির হয়ে পড়েছে আইনমন্ত্রীর জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত। বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপ, কর্মচারীদের মারধরের প্রতিবাদে বুধবার কর্মবিরতিও পালন করে জেলা বিচারবিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন।
অন্যদিকে আইনজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারাও বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের অপসারণের দাবিতে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার থেকে তিন কার্যদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।
বিচারপ্রার্থীরা বলছেন, আদালতে আইনজীবী ও বিচারকদের রেষারেষিতে আমরা পড়েছি ভোগান্তিতে। এমনিতে মামলা নিয়ে বছরের পর বছর ঘুরতে হয় আমাদেরকে এখন আদালত পাড়ার এ অবস্থায় সে ভোগান্তি আরও তীব্র হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘বুধবার (০৪ জানুয়ারি) জেলা জজের প্রত্যক্ষ মদদে ওনার অধীনস্থ কর্মচারীরা আদালতের সকল দরজা বন্ধ করে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেছেন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার বিচারপ্রার্থী আদালতে বিচারের জন্য আসেন। সবাই নিরাস হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকের জামিন হবার কথা ছিল তাও হয়নি। সেজন্য আমরা জেলা জজকে একক ভাবে দায়ী করছি। আমরা জেলা জজ শারমিন নিগার, নারী শিশু ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারক মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ ও নাজির মোমিনুল ইসলামের অপসারণ দাবী করছি মাননীয় আইনমন্ত্রীর কাছে। যদি তাদের অপসারণ না করা হয় তাহলে আমাদের আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হবে।’
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তানভীর ভুঞা বলেন, ‘বিচারকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সময় আদালতে কর্মরত একটি ছেলে ভিডিও করছিলেন, আমরা তাকে সরে যাওয়ার কথা বলেছি। কোনো বিচারককে সরে যেতে বলিনি। তবে এটিকে ভিন্ন দিকে ধাবিত করে বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে একটি মহল। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই।’
ঘটনার চারদিন পর হস্তক্ষেপ করলেন দেশের উচ্চ আদালত। বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণের কারণে তলব করা হয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি,সম্পাদকসহ ৩ জনকে। ১৭ জানুয়ারি তাদের হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে। এজলাসে হট্টগোল, বিচারক ও আদালতের কর্মচারীদের গালিগালাজের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন উচ্চ আদালত।
নভেম্বর মাসের শেষের দিকে খুলনা আদালতেও বিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটেছিলো। পরে হাইকোর্টে ক্ষমা চেয়ে পার পান জেলা আইনজীবীর সভাপতিসহ তিনজন।
