হোম জাতীয় বাসভাড়া নিয়ে বিআরটিএতে চলছে বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক :

বাসে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়ায় বৈঠকে বসেছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয় বনানীতে বুধবার (১২ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক চলছে। বেলা ২টা ৪০ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়।

আবারও করোনার নতুন ধরন নিয়ে আতঙ্কিত বিশ্ব। এরইমধ্যে দেশে বেড়ে গেছে করোনা সংক্রমণ। তাই করোনা রোধে সরকারের পক্ষ থেকে ১১টি নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। গত সোমবার (১০ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এ জন্য যাত্রীপ্রতি বাস ভাড়া বাড়ানো হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

তবে বাসে মোট আসনের অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বাস ভাড়া আবারো বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করছেন পরিবহন মালিকরা। সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। বাস ভাড়া বাড়ানো হবে কি-না বা বাড়ালে কত বাড়ানো হবে- এসব বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ভর্তুকি না দিলে আমরা বাসে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করলে আমাদের লোকসান হবে। হয় বাস ভাড়া বাড়াতে হবে না হলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দেওয়া যায় কিন্তু বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন। বাসে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রীরা অনেক সময় নিয়ম নীতি না মেনে উঠে পড়েন আবার তাদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা যাবে না। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বৈঠকে আলোচনা করব।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, আমরা জনস্বার্থ বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস ও মিনিবাসসহ সড়কে গণপরিবহন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

এর আগে গত সোমবার ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বাসভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন।

খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ সময় নিউজকে বলেন, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলের নির্দেশনা আমরা দেখেছি। কিন্তু বাসভাড়া নিয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। তার অর্থ হচ্ছে আগের মতোই ভাড়া কার্যকর থাকবে।

তিনি বলেন, যদিও আমরা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। ভাড়ার বিষয়ে সরকারের নতুন কোনো নির্দেশ না পেলে ভাড়া আগের মতোই বাড়তে পারে। আর নতুন নির্দেশনা পেলে ওই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব।

এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, বর্তমানে যে বাসভাড়া আছে, সেই ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করলে তেলের পয়সাও উঠবে না।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, কোনোভাবেই যেন পরিবহন মালিকেরা নতুন করে ভাড়া না বাড়ায়। একই সঙ্গে ভাড়া বাড়াতে যে কোনো ধরনের পাঁয়তারা বন্ধের দাবিও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরের শুরুতে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল গড়ে ২৮ শতাংশ। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।

২০২০ সালে বিধিনিষেধ চলাকালে প্রথম দফায় ৬৮ দিন বাসসহ সবধরনের গণপরিবহন বন্ধ ছিল। সে বছরের ১ জুন থেকে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল শুরু হয়। মালিকদের প্রস্তাবে ওই বছর ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল বাস মিনিবাসে। গত বছর ভাড়া বাড়িয়ে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছিল বাস মালিকরা।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন