হোম আন্তর্জাতিক বাজারে এলো প্রিন্স হ্যারির ‘স্পেয়ার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

কয়েক মাসের আলোচনা ও বিতর্কের পর প্রকাশিত হলো ব্রিটিশ রাজপুত্র প্রিন্স হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যে প্রকাশ ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে বইটি। এটাকে ১৯৯২ সালে প্রিন্স হ্যারির মা রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানা ও ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্ড্রু মর্টনের লেখা ‘ডায়ানা: হার ট্রু স্টোরি‘র পর রাজপরিবার নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত বই বলে মনে করা হচ্ছে।

বইটির প্রকাশক সংস্থা পেঙ্গুইন। এটি মোট ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষার একটি অডিওবুক হিসেবেও পাওয়া যাবে। তবে ভুলবশত বইটির কিছু কপি স্পেনে বিক্রি হয়েছে, যার ফলে ব্যাপকভাবে বইয়ের তথ্য ফাঁস হওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছে সংস্থাটি।

বিবিসি জানিয়েছে, বইটি বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে লন্ডনের বইয়ের দোকানগুলো মধ্যরাতেই খোলা হয়। বইয়ের একটি কপি সংগ্রহের জন্য দোকানগুলোর সামনে ভক্তদের লম্বা লাইন পড়ে।

স্পেয়ারের বহু অংশ ফাঁস হওয়া ও গত সপ্তাহে স্পেনে বইটি সময়ের আগেই বাজারে এসে যাওয়ায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার পর লন্ডনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ব্রিটিশ খুচরা বই বিক্রোতা প্রতিষ্ঠান ওয়াটারস্টোনস জানিয়েছে, প্রিন্স হ্যারির বই ‘এক দশকের মধ্যে তাদের সবচেয়ে বেশি আগাম ক্রয়াদেশ পাওয়া’ বইগুলোর অন্যতম।

ওয়াটারস্টোনসের প্রধান শাখা লন্ডনের পিকাডেলির দোকানটি মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই খোলা হয়। বইটি ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করবে বলে আশা করছে তারা। ‘স্পেয়ার’-এর প্রকাশ উপলক্ষে আরও যারা দোকান খোলা রাখার সময় বৃদ্ধি করেছে তাদের মধ্যে আরেক প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএইচ স্মিথের ইউস্টন, ভিক্টোরিয়া, হিথ্রো ও গ্যাটউইকের শাখাগুলোও আছে।

এদিকে হ্যারি স্মৃতিকথাটি এরই মধ্যেই যুক্তরাজ্যে অনলাইন রিটেইলার অ্যামাজনের বেস্ট সেলারগুলোর শীর্ষে উঠে এসেছে। বইটি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিতর্ক চলছে। বই প্রকাশের আগে বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেন প্রিন্স হ্যারি। এ ছাড়া বাবা রাজা তৃতীয় চার্লস ও বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম সম্পর্কে ‍কিছু গুরুতর অভিযোগ করেন তিনি।

৪১০ পৃষ্ঠার এই স্মৃতিকথায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনার কথা এসেছে, প্রিন্স হ্যারির ভাষ্যে তার বেড়ে ওঠা ও রাজপরিবারের সঙ্গে তার ঝগড়ার কথাও উঠে এসেছে। তবে এ পর্যন্ত এসব নিয়ে বাকিংহাম প্যালেস ও কেনসিংটন প্রাসাদ কোনো মন্তব্য করেনি এবং কোনো মন্তব্যের অনুরোধে সাড়াও দেয়নি।

আত্মজীবনীতে প্রিন্স হ্যারি লিখেছেন, তার বাবা কিং চার্লস তাকে ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ‘কে বলতে পারে আমি তোমার সত্যিকারের বাবা কি না।’ বইটিতে হ্যারি দাবি করেন, তার ভাই প্রিন্স উইলিয়াম তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছিলেন, যখন তারা হ্যারির স্ত্রী মেগান সম্পর্কে তর্ক করছিলেন।

স্পেয়ারে হ্যারির কাছ থেকে আরও একটি দাবি রয়েছে, যেখানে ১৯৯৭ সালে তার মা ডায়ানার প্রিন্সেস অব ওয়েলসের মৃত্যুতে শুধু একবার কেঁদেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি। হ্যারি জানান, যখন তার মাকে কবর দেয়া হচ্ছিল, শুধু সে সময়ই কেঁদেছিলেন তিনি। এ ছাড়াও বইটিতে হ্যারি তার কুমারত্ব হারানোর বিবরণ, কিশোর বয়সে মাদক সেবনের স্বীকারোক্তি ও আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করার সময় ২৫ জনকে হত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন