হোম অন্যান্যসারাদেশ ফেসবুকে গণভোটের স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ

ফেসবুকে গণভোটের স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 63 ভিউজ

নিউজ ডেস্ক:
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বরে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৬ জনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর-নড়িয়া সড়কে ভোজেশ্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের প্রচারণা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৬ জন হলেন- জামায়াত ইসলামীর কর্মী মিজানুর রহমান ও শাহ আলম, ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান সিকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, জপসা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সবুজ মাদবর, ভোজেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর-২ আসনে (নড়িয়া-সখিপুর) নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের অবস্থান। ওই ইউনিয়নের এক জামায়াত ইসলামীর কর্মী মঙ্গলবার সকালে বিএনপির এক নারী নেত্রী গ্রামে গিয়ে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন ফেসবুকে এমন একটি পোস্ট দেন। ওই বিষয়টি জিজ্ঞাসা করার জন্য ভোজেশ্বরের কয়েকজন বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতারা মঙ্গলবার দুপুরে ভোজেশ্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যান। সেখানে নড়িয়া উপজেলা (পশ্চিম) জামায়াত ইসলামীর আমীর তাহের নজরুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিএনপি নেতারা বিষয়টি জানতে চান। তখন দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

ঘটনা জানাজানির পর দুপক্ষের কর্মী সমর্থকরা জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান সিকদার বলেন, আমার বোন টিসিবি সংক্রান্ত কাজে গ্রামে গিয়েছিলেন। তার সম্পর্কে জামায়াত ইসলামীর এক কর্মী ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছিল। আমরা বিষয়টি জানতে জামায়াতের আমির কাছে যাই। এরপর তার জামায়াত ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে আমাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

জামায়াত ইসলামীর নড়িয়া উপজেলা (পশ্চিম) নায়েবে আমির মোর্শেদ খান বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা ভোজেশ্বর এলাকায় প্রচারণার কাজ চালাচ্ছিলেন। তখন বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছিলেন। ওই ঘটনা নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তারা আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের দুই কর্মী আহত হয়েছেন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক খন্দকার রাশেদ আহম্মেদ বলেন, একটি মারামারির ঘটনায় পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের শরীরে বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ দেখা গেছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।

নড়িয়া থানার ওসি মো. বাহার মিয়া বলেন, জামায়াত ইসলামীর এক কর্মী বিএনপির এক নেত্রী ও ইউপি সদস্য সম্পর্কে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ওই ঘটনায় দুই পক্ষেরই কয়েকজন আহত আছেন বলে খবর পেয়েছি। এই ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযান পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, শরীয়তপুর-২ আসনে (নড়িয়া-সখিপুর) বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীসহ ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে সফিকুর রহমান ও জামায়াত ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়ছেন মাহমুদ হোসেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন