খেলাধূলা ডেস্ক:
বাংলাদেশের জয়ে সব সময়ই বড় ভূমিকা রাখে স্পিনাররা। টেস্ট ক্রিকেটে সেটা আরও প্রকট। মিরপুরের মন্থর উইকেটের সুবিধা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে কুপোকাত করার উদাহরণও আছে। কিন্তু ফাস্ট ও সবুজ উইকেটেও যে ভঙ্কর রূপে হাজির হতে পারে টাইগাররা, আধিপত্য করতে পারেন পেসাররা, সে উদাহরণ তৈরি হয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই।
আফগানদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে শনিবার (১৭ জুন) ৫৪৬ রানের বড় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। সাদা পোশাকের ক্রিকেট ইতিহাসে ৮৯ বছর পর এত বড় জয় দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। লাল সবুজের প্রতিনিধিরা ব্যাট-বল দুই বিভাগেই দেখিয়েছে আধিপত্য। মন্থর পিচে অভ্যস্ত টাইগাররা ফাস্ট উইকেটে তিন সেঞ্চুরির সঙ্গে তিন ফিফটি তুলে নিয়েছে। তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন মিলে তুলে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। নিজেদের কন্ডিশনের বাইরের উইকেটে খেলেও লিটনবাহিনীর এমন আধিপত্য তাই বেজায় খুশি কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহে। এ ধরনের উইকেটে জয়টা তার কাছে তাই বিরাট ব্যাপার।
রোববার (১৮ জুন) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘আমি জানি না, আপনারা দেখেছেন কিনা, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছি, এটা শুধু একটা টেস্ট জয় নয়, তার চেয়েও বিশেষ কিছু। আমি বোঝাতে চেয়েছি, আমরা যেভাবে এই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়েছি, সেটা এর আগে কখনো হয়নি। আমরা ফাস্ট ও সবুজ উইকেট তৈরি করেছি। এ ধরনের উইকেটে খেলে জেতা বিরাট ব্যাপার।’
এমন একটি উইকেট উপহা দেয়ার জন্য মিরপুর স্টেডিয়ামের কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন হাথুরুসিংহে। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক মানসিক বাধা পার করেছি। কারণ, ম্যাচের আগে অনেকেই আমরা কেমন করব, সেটা নিয়ে সন্দেহ করেছিল। আমরা এখানে সাধারণত ভিন্ন ধাঁচের ক্রিকেট খেলি। গামি, কিউরেটরকেও কৃতিত্ব দিতে হবে এ ধরনের উইকেট তৈরির জন্য। সেদিক থেকে, এটা একটা টেস্ট জয়ের চেয়েও বেশি কিছু।’
বাংলাদেশের রেকর্ড জয়ে ব্যাট হাতে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসেই হেসেছে তার ব্যাট। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১৪৬ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ১২৪ রান।
তার ভূয়সী প্রশংসা করে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘শান্তকে কৃতিত্ব দিতে হবে দুই ইনিংসে তার ব্যাটিংয়ের জন্য। বিশেষ করে প্রথম দিনের প্রথম দুই ঘণ্টা সে আর জয় যেভাবে খেলেছে, সেটা ড্রেসিংরুমের সবার স্নায়ু ঠান্ডা করেছে।’
কোচের কণ্ঠে প্রশংসা ঝরেছে মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাটিং নিয়েও। প্রথম ইনিংসে ১৩৭ বলে ৭৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মারকুটে ভঙ্গিতে ১৩ বলে ১৭ রান করেন তিনি। ঢাকা টেস্টের আরেক সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হকের রানে ফেরাতে স্বস্তি পাচ্ছেন হাথুরুসিংহে।
গণমাধ্যমকে টাইগার কোচ বলেন, ‘জয়ের টেম্পারমেন্ট ভালো। তার রেকর্ডও বলে, সে যদি শুরু পেয়ে যায়, তাহলে বড় ইনিংস খেলে। আর আমি খুবই খুশি যে মুমিনুল রানে ফিরেছে।’
টেস্ট পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ শিষ্যরা। সাদা পোশাকের লড়াইয়ে অবশ্য আফগানদের শক্তিশালী বোলিং অস্ত্র ছিল না। কিন্তু আগামী ৫ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজে প্রতিপক্ষ শিবিরে ফিরছেন রশিদ খান, মুজিব উর রহমান ও ফজল হক ফারুকীরা। তবে সেটা নিয়ে চিন্তিত নন হাথুরুসিংহে। তার ব্যাটাররা সেখানেও এগিয়ে থাকবেন বলে বিশ্বাস তার।
আফগানদের বোলিং ইউনিট শক্তিশালী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বোলিংয়ের দিক থেকে তারা সেরা দলগুলোর একটি। তাদের বোলিংটা একটা বড় হুমকি। পরিকল্পনা সাজানোর সময় আমরা এটি অবশ্যই মাথায় রাখব। তবে আমার মনে হয়, আমাদের ব্যাটসম্যানরা কিছুটা এগিয়ে থাকবে।’
