হোম অন্যান্যসারাদেশ ফকিরহাটে মৎস্য ঘেরের পাড়ে উৎপাদিত নিরাপদ সবজি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে

মান্না দে, ফকিরহাট (বাগেরহাট) :

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগায় মৎস্য ঘেরের পাড় ও আইলে উৎপাদিত নিরাপদ সবজি মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে যাচ্ছে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। বিষের প্রভাবে ঘেরের মাছ মারা যাওয়ার ভয়ে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক বালাইনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে সবজি খেতে। উপজেলা কৃষি বিভাগের এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় এসব সবজি চাষ করছেন বলে জানান স্থানীয় কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নে ৬০ হেক্টর জমিতে এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ৬০০ জন কিষাণ কিষাণী নিরাপদ সবজি চাষ করছেন। মাছের ঘেরের পাড়ে ও আইলের পাশে মাচায় চাষ হচ্ছে সবজি আর নিচের পানিতে চাষ হচ্ছে চিংড়ি ও সাদা মাছ। পোকা মাকড়ের হাত থেকে সবজি রক্ষা করতে তারা নিম পাতার রস, মেহগনি ফল, আলোর ফাঁদসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বালাইনাশক ব্যবহার করেন। মাটিতে ব্যবহার হয় কেঁচো ও গোবর সার।

বেতাগায় অধিকাংশ ঘেরের পাড়ে ও আইলে নির্মিত সারি সারি মাচায় ঝুলছে চাল কুমড়া, করলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও শসা।এছাড়া আছে ঢেঁড়স, বরবটি, পুঁইশাক, বেগুন ও পেঁপে। বর্ষাকালীন সবজির পাশাপাশি আগাম শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করেছেন অনেকে।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৪ ধরণের সবজি চাষ করছেন তাঁরা। একদিন পর একদিন সবজি তুলে খেতের পাশের কালেশন পয়েন্টে বিক্রি করেন। নিরাপদ সবজি হওয়ায় দামও ভালো পাচ্ছেন ফসলের। সংগৃহীত টাটকা সবজি ট্রাকযোগে পদ্মা সেতু দিয়ে ৩ ঘন্টায় চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন সবজি বাজারে।

বেতাগার পালপাড়া এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের সংগৃহীত ফসল বস্তা ভর্তি করা হচ্ছে। পাশেই অপেক্ষা করছে ট্রাক। এখানকার ১২৫ জন কৃষক মিলে ২টি কালেকশন পয়েন্ট তৈরি করে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় সবজি বিক্রি করেন। একদিন পর একদিন প্রায় ৪শত মণ সবজি বিক্রি হয় এখানে। এসময় কালেকশন পয়েন্টে জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন ও উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাছরুল মিল্লাতকে পরিদর্শন করতে দেখা যায়।

জীবন পাল, অনিমেষ কুমার পাল, প্রমীলা পালসহ কয়েকজন কৃষক জানান, ঘেরের আইলে বিঘা প্রতি তাদের উৎপাদন খরচ মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। উৎপাদিত ফসল প্রায় ১ লক্ষ ২০ টাকা বিক্রি করেন। পালপাড়া কালেকশন পয়েন্ট থেকে চলতি মৌসুমের ৪৭ দিনে কৃষকেরা ৪০ লক্ষ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। আরও ৬০ দিন তাঁরা নিয়মিত সবজি বিক্রি করবেন বলে জানান। এছাড়া আগাম শীতকালীন সবজিও কিছু দিনের মধ্যে বাজারজাত করার আশা করছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাছরুল মিল্লাত বলেন, এসএসিপি প্রকল্পে সরকারের দেওয়া সুযোগের পুরোটাই কাজে লাগিয়েছে এখনকার কৃষকেরা। পুরুষদের পাশাপাশি এখানে প্রায় ৪০ ভাগ নারী চাষি সবজি উৎপাদন করে। প্রকল্পটি কৃষকের জন্য যেমন আর্থিক লাভজনত তেমনি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন