মান্না দে, ফকিরহাট (বাগেরহাট) :
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। শেষে মুহুর্তে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা শিল্পীরা।
এ দুগোৎসবকে সামনে রেখে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে দেখা দিয়েছে পুজোর কেনাকাটা সহ বিভিন্ন কর্মব্যস্ততা। এদিকে দিন রাত কাজ করে শিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। মাটির কাজ প্রায় শেষ। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই শিল্পীদের। এখন রং তুলির আঁচড়ে দেবীকে রাঙ্গিয়ে তুলতে নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাট কেন্দ্রীয় কালি মন্দিরের দূর্গা মন্ডব, মানসা কালি মন্দিরের দূর্গা মন্ডব, আট্টাকী সার্বজনীন শীতলা মন্দির দূর্গা মন্ডব, মোমতলা মন্ডব সহ উপজেলায় এবার ৬৮টি পূজা মন্দিরে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আট্টাকী সর্বজনীন শীতলাতলা দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডা. অরবিন্দ পাল মনি জানান, ‘করোনা মহামারীর কারনে গত দুই বছর সীমিত পরিসরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পৌরাণীক কাহিনী অবলম্বনে ২০টি মৃন্ময়ী প্রতিমা সহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অসুর বিনাশী চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।’
প্রতিমা কারিগর প্রশান্ত দাশ, হৃদয় দাশ ও শংকর দাশ জানান, ‘প্রায় দেড় মাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এখন রঙের কাজ চলছে।তারা আরও জানান, ‘বছরের বেশির ভাগ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোতোষ রায় কেষ্ট বলেন, উপজেলায় এবছর ৬৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও আইন-শৃখলা স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিমিয় সভা হয়েছে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মু. আলিমুজ্জামান বলেন, ‘পুজোর সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও আইন-শৃখলা স্বাভাবিক রাখতে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটা মন্দির সিসি ক্যামেরা থাকবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উৎসবটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে অধিক সংখ্যক পুলিশ থাকবে। এছাড়া আনসার ভিডিপি সহ সেচ্ছাসেবক সবসময় নিয়োজিত থাকবে।’
ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দুর্গাপূজায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখতে বজায় রাখতে ভ্রামমান আদালত সহ র্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন ফোর্স সবসময় টহলে থাকবে। আইন-শৃখলা কমিটির সাথে বৈঠক করে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রয়োযনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়াও আগামী ২৯সেপ্টেম্বর প্রতিটা মন্দির কমিটির সাথে বৈঠক করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয়া সহ মন্দির কমিটির নিকট সরকারি ভাবে বরাদ্দকৃত অনুদান দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এবার দেবীদুর্গা গজে আগমন ঘটবে। দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামী শনিবার (১ অক্টোবর) থেকে এবং বুধবার (৫ অক্টোবর) প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
