হোম ফিচার ফকিরহাটে অর্গানিক বেতাগায় খিরা চাষে বাম্পার ফলন, চাষিদের মুখে হাসি

মান্না দে, ফকিরহাট (বাগেরহাট) :

বাগেরহাটের ফকিরহাটে অর্গানিক বেতাগায় খিরা চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। খিরা চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিদের মুখে খুশির হাসি ফুটে উঠেছে। কীটনাশক মুক্ত পদ্ধতিতে কোন প্রকার রাসায়নিক ছাড়া খিরা চাষ করায় বাজারে তার চাহিদা অনেক বেড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস নানা প্রকার সহযোগিতা করায় তাদের ক্ষেতে ফলন ভাল হয়েছে।

অর্গানিক বেতাগার খিরা চাষি দেবাতুষ কুমার দাশ বলেন, তিনি গত কয়েক বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নানা প্রকার সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষন গ্রহণ করেন। এরপর সেখান থেকে বীজ সংগ্রহ করে খিরা চাষ শুরু করেন। প্রথম বছর ফলন তেমন একটা ভাল না হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। পরবর্তীতে তিনি কৃষি অফিসের পরামর্শে চলতি বছর পুনরায় খিরা চাষ শুরু করেন। এবার তার ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি দুই বিঘা জমিতে খিরা চাষ করে প্রতি দুইদিনে প্রায় ১৫মন খিরা উত্তোলন করেন।

এদিকে চাষি মনোতোষ কুমার দাশ জানান, বিষাক্ত পোকামকড়ের হাত থেকে রক্ষা ও ভাল ফলনের জন্য কৃষি জৈব সার ও ফেরোমন ফাঁদ সরবরাহ করে। তিনি এবার ১২কাঠা জমিতে খিরা চাষ করেন।

এছাড়া অসিত কুমার দাশ দুই বিঘা, তরিকুল ইসলাম ১৬কাটা, শহীদুল ইসলাম ১০কাটা, তপন কুমার দাশ এক বিঘা, সুধাশু কুমার দাশ ১০কাটা, শেখ দেলোয়ার হোসেন ১০কাটা, কৃষ্ণ কুমার দাশ ১০কাটা, পরেশ কুমার দাশ ১০কাটা, হারাধন দাশ ৫কাটা, আউব আলী ১৫কাটা ও তনয় কুমার দাশ ৫কাটা সহ ৪০জন চাষি প্রায় ২০একর জমিতে খিরা চাষ করছেন। কীটনাশক মুক্ত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি থাকায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। যে কারনে খিরা চাষে আগ্রহী হয়ে থাকেন চাষিরা।

পাইকারী বিক্রেতা হরিপদ কুমার দাশ বলেন, তিনি অর্গানিক বেতাগার খিরা সহ নানা প্রকার সবজি ক্রয় করে থাকেন। এগুলো ক্রয় করে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ সহ বিভিন্ন মোকামে পাইকারী দরে বিক্রয় করে থাকেন।

বেতাগা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুস আলী শেখ বলেন, আমরা অর্গানিক বেতাগায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণের জন্য অর্গানিক পল্লী গড়ে ছিলাম। কিন্তু মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামার স¤প্রসারণ করার কারণে অনেকাটা জমি বেহাত হয়ে গেছে। তার পরেও যে টুকু আছে সেখানে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করার চেষ্টা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাছরুল মিল্লাত বলেন, আমরা কৃষি অফিস থেকে খিরা চাষিদের জন্য জৈব সার. ফেরোমন ফাঁদ ও চাষিদের আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করে থাকি। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ মন্ডল সার্বক্ষনিক চাষিদের পাশে থেকে পরামর্শ প্রদান করেছেন। ফলন ভাল হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাশ বলেন, আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণের জন্য অর্গানিক বেতাগা প্রতিষ্ঠা করেছি। সে অনুযায়ী কৃষকরা নানা প্রকার সবজি উৎপাদন করছে কীটনাশক ছাড়াই। আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে কৃষকদের উৎসাহ যোগাচ্ছি। আর তারাও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন