হোম এক্সক্লুসিভ প্রসঙ্গ : ভোমরা সিএন্ডএফের পাতানো নির্বাচন। ব্যক্তি স্বার্থের কাছে দলীয় স্বার্থ তুচ্ছ !

প্রসঙ্গ : ভোমরা সিএন্ডএফের পাতানো নির্বাচন। ব্যক্তি স্বার্থের কাছে দলীয় স্বার্থ তুচ্ছ !

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 1112 ভিউজ

মন্তব্য প্রতিবেদন

রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী
——————-

বিএনপি-হাইব্রীড পূণর্বাসন! 

সাপ্তাহিক “ইচ্ছেনদী” পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মকছুমুল হাকিম। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা। বর্তমান সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্যের পিএস এর দায়িত্ব পালন করছেন। ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পাতানো নির্বাচনের ফলাফল সাপ্তাহিক “ইচ্ছেনদী” পত্রিকায় গুরত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। খবরের শিরোনাম ছিল, “ভোমরা সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে ম্যাজিক ভোটে জিতলেন যারা”। প্রত্যেকের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ রয়েছে। সভাপতি পদে কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু (বিএনপি), সহ-সভাপতি পদে এজাজ আহমেদ স্বপন (আওয়ামী লীগ), ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাকসুদ খান (হাইব্রিড),।

অথচ পাতানো নির্বাচনের আগে জেলা পরিষদের প্রশাসকের কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন, দলীয় সিএন্ডএফ এজেন্টদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু হলো তার উল্টো। ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিএনপি-হাইব্রিড কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমানেকে প্রস্তাব দিলে তারা দুজনেই অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। যার কারণে ওই কমিটিতে সহ-সভাপতির পদে যোগ দিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এজাজ আহমেদ স্বপন। কয়েকদিন আগে এজাজ আহমেদ স্বপনের সাথে কথা হচ্ছিল। স্বপন আমাকে বলছিল, সে যদি কমিটিতে যোগ না দিত তাহলে দলীয় বৈধতা পেত না। একই কথা বলছিলেন ০৯ (নয়) সদস্য বিশিষ্ট ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পাতানো নির্বাচনে কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা ও এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তারা যদি বলতেন, সর্বদলীয় কমিটি গঠন করা হবে। তাহলে কোন কথা নেই। কিন্তু দলীয়করণের কথা বলে বিএনপি ও হাইব্রিডদের পূনর্বাসনের নেপথ‌্যের কারণ কি? কারো তা বুঝতে বাকি রইল না। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ সাইদ উদ্দিন দলের এক শীর্ষ নেতাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, সভাপতি পদে বিএনপিপন্থী সিএন্ডএফ এজেন্টকে দায়িত্ব দিলে আমরা তা মেনে নেব না। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

সাতক্ষীরা জেলায় আওয়ামী লীগপন্থী সিএন্ডএফ এজেন্ট মাত্র ১০ জন। এর মধ্যে কমিটিতে স্থান পেয়েছে মাত্র চারজন। বাকিরা কমিটির বাইরে রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানতে পেরেছি, পাতানো নির্বাচনে বিএনপি ও হাইব্রিডের কাছে পদ বিক্রয় করে প্রায় দুই কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ভোমরা বন্দরের বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় সিরিয়ালের নামের চাঁদাবাজির তহবিল থেকে এই অর্থের যোগান এসেছে। জানিনা এই খবরের সত্যতা কতটুকু? কথা বলছিলাম সিভিল প্রশাসনের এক কর্মকর্তার সাথে। তিনি সবকিছুরই খোঁজখবর রাখেন। তিনি বললেন, দলীয়করণের নামে এবারও অর্থকরণ হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে এক সিনিয়র সাংবাদিক জানালেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেউ আওয়ামী লীগপন্থী নন। অতীতে তাদের নৌকায় ভোট দেওয়ার ও কোনো রেকর্ড নেই।

আওয়ামী লীগপন্থী এক সিএন্ডএফ এজেন্ট আক্ষেপ করে বলল, তাদেরকে কুরবানীর পশুর মত হাটে তুলে দর হাঁকানো হয়েছে। আর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বিএনপি ও হাইব্রিডদের কাছে বিক্রি করা হলো। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাইব্রিড ও নব্য আওয়ামী লীগারদের ব্যাপারে প্রতিনিয়ত সতর্ক করে চলেছেন। কিন্তু কে শুনে কার কথা! নেতাদের স্বার্থের কাছে দলের স্বার্থ তুচ্ছ।

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পাতানো নির্বাচনী নাটকের শেষ অঙ্কে মহানায়ক এর মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একে ফজলুল হক। তিনি পাতানো নির্বাচনে গত ৯ মে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী ও সাধারণ সিএন্ডএফ এজেন্টদের পুলিশের বাঁধার নিন্দা ও একই সাথে তিনি বিএনপি ও হাইব্রিডদের পূনর্বাসনের প্রতিবাদ জানিয়ে অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবী জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু পরদিনই চিত্র পাল্টে গেল। শেষ মুহূর্তে এই পাতানো নির্বাচনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনিও হাজির হলেন। নাশকতা মামলার আসামি নির্বাচন কমিশনার আশরাফুল ইসলাম শপথ বাক্য পাঠ করালেন। সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের পাতানো নির্বাচনে বিএনপি ও হাইব্রিডের পুর্নবাসনের ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারা ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বাহ কি চমৎকার!

লেখক পরিচিতি : সিনিয়র সাংবাদিক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন