হোম ফিচার পোশাক চুরির দায়ে মৃত্যুদণ্ড!

বিনোদন ডেস্ক :

পৃথিবীতে অসংখ্য অপরাধের ভিড়ে পোশাক চুরি বিষয়টি একেবারেই তুচ্ছ ঘটনা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এই পোশাক চুরির দায়ে যে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে সেকথা হয়ত অনেকেরই অজানা। তবে শুনতে একটু অন্যরকম মনে হলেও বাস্তবে কিন্তু পোশাক চুরির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আধুনিক ইংল্যান্ডের শুরুর দিকে পোশাকের কারণে আক্ষরিক অর্থেই মানুষকে বহু মূল্য দিতে হতো। এমনকি পোশাকের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে কাউকে মেরে ফেলার মতো ভয়াবহ অপরাধও সংঘটিত হতো।

১৬৩৬ সালে জোয়ান বার্স নামক এক গৃহপরিচারিকা বিষাক্ত মারকিউরি কিনেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল, দুধের পাত্রে পারদ মিশিয়ে তা গৃহকর্ত্রীকে খাওয়ানো। সেই গৃহকর্ত্রীর মৃত্যুর পর তার দামি জামাগুলো পরার আশা করেন জোয়ান। সে সময় একটি সাধারণ মানের এক পাউন্ড মূল্যের কোট তৈরি করতে একজন দক্ষ ব্যবসায়ীরও ২০ দিন সময় লাগত।

এমনকি কারো উইল তৈরির সময় পোশাকের বিষয়টি শুরুতেই বিবেচনা করা হতো; যেহেতু ঘরবাড়ির চাইতেও পোশাক-পরিচ্ছদ ছিল তুলনামূলক দামি। তখন কেউ নতুন পোশাক পরলেও তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হতো। সে সময় সমাজের কোনো স্তরের মানুষই পোশাক চুরির থেকে রেহাই পেতেন না।

এলিজাবেথীয় যুগের অন্যতম তারকা ব্যক্তিত্ব ক্লাউন রিচার্ড টার্ল্টনও একবার এই চুরির কবলে পড়েছিলেন। একরাতে বন্ধুদের সাথে বাইরে আড্ডারত অবস্থায় তার বাসার সব পোশাক চুরি হয়ে যায়। এজন্য তাকে মঞ্চেও হাসি-ঠাট্টার শিকার হতে হয়েছে অনেকবার।

১৭০০ শতকের শুরুতে পোশাক চুরির ঘটনায় ইংল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি মামলা দায়ের করা হয়। পোশাকের জন্য খুন করার ঘটনা কম হলেও পোশাককে কেন্দ্র করে ঘটা অপরাধের সংখ্যা কম নয়। এমনকি পোশাকের এই বিরাট চাহিদা পূরণের জন্য নিত্য-নতুন অপরাধ সংঘটিত হতে শুরু করে।

তাই পোশাক চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের ‘টাইবার্ন’ গাছে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান শুরু হয় তখন। আসামিদেরকে প্রথমে কয়েকদিন কারাগারে রাখা হতো। মৃত্যুদণ্ডের দিন কারাগার থেকে টাইবার্ন গাছ পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ির পেছনে বেঁধে তাদেরকে জনতার সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। হাস্যকর হলেও সত্যি, এই উন্মত্ত জনতার ভিড়ে পকেটমারদের আখড়াও থাকত।

১৬-১৭’শ শতকের নাগরিকদের সাথে পোশাকের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সম্পর্ক নিমিষেই বোঝাটা কঠিন। তখন অধিকাংশ নাগরিক একাধিক পোশাক কেনার ক্ষমতা রাখতেন না। তবে, বর্তমান সময়ের মতো তখনও পোশাক সামাজিক মর্যাদার পরিচায়ক ছিল।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন