হোম অর্থ ও বাণিজ্য পোশাকশিল্পে অর্ডার ২০ শতাংশ কমেছে

বাণিজ্য ডেস্ক :

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়া ইউরোপ-আমেরিকা থেকে অর্ডার কমে যাওয়ায় চাপে পড়েছে পোশাকশিল্প। গত দুমাসে কমেছে অন্তত ২০ শতাংশ অর্ডার। তবে এর মধ্যেও আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা। থ্যাংকস গিভিং ডে, ক্রিসমাস এবং নববর্ষকে সামনে রেখে অর্ডার বাড়তে পারে বলে আশা তাদের।

চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে তৈরি পোশাক খাতে রফতানি আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে এ খাত থেকে জুন মাসে ৪ দশমিক শূন্য নয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছিল।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বমন্দার কবলে পড়েছে ইউরোপ-আমেরিকার অধিকাংশ দেশ। চলতি ফল সিজনের শিপমেন্ট এবং যেমন আগামী স্প্রিং সিজনের অর্ডার নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ফল সিজনের অনেক অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে অর্ডারগুলো জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শিপমেন্ট করার কথা ছিল সেগুলো নভেম্বর-ডিসেম্বরে শিপমেন্ট করার টার্গেট দেয়া হচ্ছে। আর স্প্রিং সিজনের বুকিংও প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে ইউরোপের ২৭টি দেশকেই চিহ্নিত করা হয়। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আমেরিকা। এ ক্ষেত্রে চলতি ফল এবং আগামী স্প্রিং সিজন নিয়ে জটিলতা হলেও থ্যাংকস গিভিং ডে এবং ক্রিসমাস ডে’কে সামনে রেখে কিছু অর্ডার আসতে পারে বলে ধারণা করছেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইউরোর দাম ডলারেরও নিচে নেমে এসেছে যে কারণে ক্রেতাদের অর্ডারের পরিমাণ কমে গেছে।

বিজিএমইএর দাবি, গত দুই মাসে অন্তত ২০ শতাংশ অর্ডার যেমন কমেছে, তেমনি বর্তমানে যা আসছে তা আবার ৩০ শতাংশ কম দামে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে হারানো অর্ডারগুলো ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে ডলার সংকট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলছেন গার্মেন্টস মালিকরা।

ক্লিফটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ডি এন মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘অন্যান্য দেশ কম মূল্যে এসব অর্ডার নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি এ অর্ডারগুলো নেয়ার জন্য ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই, সে জায়গায় আমাদের সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

উল্লেখ্য, ২০২১-২২ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় হওয়ায় চলতি অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন