আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পাকিস্তানের খাইবারপাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু শহরের একটি থানায় কাউন্টার-টেরোরিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) জিম্মি পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বিদ্রোহী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে এ অভিযান শুরু করেছে পাক সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল।
রোববার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে প্রদেশের বান্নু শহরের লাক্কি মারওয়াত এলাকার সিটিডির থানা হামলা চালায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি)। এ হামলায় চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। খবরে বলা হয়, হামলা চালিয়ে থানার দখল নেয় তালেবান। পাশাপাশি কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদন মতে, থানায় হামলার তৃতীয় দিনে জিম্মি পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে মঙ্গলবার লাক্কি মারওয়াত এলাকায় অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযান পরিচালনা করছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে জিম্মি সব পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে টিটিপির অন্তত ছয় যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে বান্নু জেলার সব হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববারের ওই হামলার পর লাক্কি মারওয়াত পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, ‘মধ্যরাতে জঙ্গিরা পুলিশ স্টেশনে হামলা করে এবং ভবনটিতে ঢোকার চেষ্টা করে।’ ওই সময় ৬০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এক বিবৃতিতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী মাহমুদ খান হামলার নিন্দা জানান। নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
পাকিস্তান পিপলস পার্টির টুইটার অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে বলা হয়, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি হামলার নিন্দা জানান। শহীদ পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসবাদী ঘটনা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি উদ্বেগ জানান।
গত ২৮ নভেম্বর তালেবান পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাদের অস্ত্রবিরতি চুক্তি বাতিল করে। সেই সঙ্গে তারা তাদের সদস্যদের দেশজুড়ে হামলা চালানোর নির্দেশ দেয়। তখন টিটিপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাক্কি মারওয়াত এলাকায় সরকারি বাহিনী অবিরত হামলা শুরু করায় তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
