জাতীয় ডেস্ক :
বাংলাদেশের ওপর পশ্চিমাদের নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না সরকার। সম্প্রতি সব রাষ্ট্রদূতকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে রাষ্ট্রদূতদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি সরকারবিরোধী অপপ্রচার রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাব ও এর ৬ শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর গত এক বছরেরও বেশি সময়ে নানা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র। সাক্ষাত করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বাংলাদেশ ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর।
২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেয়া হয় আইনজীবী অন্যদিকে দেশবিরোধী প্রচারণায় লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগ ওঠে বিএনপির বিরুদ্ধে। গেল বছর এমন নিষেধাজ্ঞা আরও আসবে এমনটা ধরে নিয়েছিল বিএনপিসহ বিরোধী নানা মহল।
সম্প্রতি এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছিলেন, তারা (বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দল) নিশ্চিত ছিল যে নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আসবে। সেটাকে মিলিয়ে ১০ তারিখে তারা একটি সেলিব্রেটি মুডে বিশাল একটা জনসভা করবে। বাঙালি মনে করবে যে সরকারের সঙ্গে কোনো বন্ধু নেই।
এরমধ্যে, গত ৩১ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র সচিবের দফতর থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয় বিদেশে নিয়োজিত বাংলাদেশের সব রাষ্ট্রদূতকে।
যেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘সরকার ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্ষতিসাধনের উদ্দেশে সরকারি সংস্থা ও ব্যক্তির ওপর একই বা অন্য কারণে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে প্রস্তুত থাকার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
চিঠি পাঠানোর পরদিন পহেলা জানুয়ারি দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য নিয়ে রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। যেখানে সরকারবিরোধী অপপ্রচার চালালে তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
সে সময় তিনি বলেছিলেন, যদি এ রকম মিথ্যা তথ্য কেউ ছড়ায় তাহলে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটার জন্য মিনিস্ট্রি থেকে হুকুম পাবেন তারপর ব্যবস্থা নেবেন সেটা ভুলে যাবেন।
যদিও এর কিছুদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও বলেছিলেন, আমাদের সঙ্গে আমেরিকার খুব ভালো সম্পর্ক। এটা নিয়ে আতঙ্ক ও আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।
