হোম আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র কখন ব্যবহার করা হবে, জানাল রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

শত্রুর বিরুদ্ধে ঠিক কখন পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, তা জানাল রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মস্কো শুধুমাত্র ‘জরুরি পরিস্থিতি’তে তার পরমাণু অস্ত্রাগার ব্যবহার করবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের কোনো আগ্রহ তাদের নেই। বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

রাশিয়া ইউক্রেনে পরমাণু বা রাসায়নিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে বলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন চলছে। এর জবাবে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে লক্ষ্য অর্জন করার জন্য পরমাণু অস্ত্রের কোনো প্রয়োজন মস্কোর নেই।

রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এদিন মস্কোয় এক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন, ইউক্রেনে আমরা যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি তা অর্জন করার জন্য পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, রাশিয়া প্রধানত (শত্রুপক্ষের) সম্ভাব্য পরমাণু হামলা প্রতিহত করার জন্য পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম ব্যাপকভাবে এই জল্পনা ছড়িয়ে দিচ্ছে যে, রাশিয়া তার বিশেষ সামরিক অভিযানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে অথবা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে যাচ্ছে। কিন্তু এসব তথ্যগত আক্রমণ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

সের্গেই শোইগু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ইউক্রেনে একটি সংঘাত বাধানোর পাঁয়তারা করে আসছিল এবং এজন্য তারা পূর্ব-ইউরোপে সেনা ও সমরাস্ত্রের আনাগোনা বাড়িয়েছিল। তাদের সে পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতেই রাশিয়া আগাম অভিযান চালিয়েছে।

দুদিন পর বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইভান নেচায়েভ বলেন, পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। তবে শুধুমাত্র ‘পাল্টা পদক্ষেপ’ হিসেবে। বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘রুশ সামরিক নীতি অনুযায়ী, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি অথবা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লেই কেবল পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর মানে কোনো হামলার মুখে শুধুমাত্র আত্মরক্ষা ও জরুরি মুহূর্তেই কেবল পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার সম্ভব।’

রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ইউক্রেনকে ‘নাৎসিমুক্ত’ করার কথা বলছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর আমেরিকাসহ ইউরোপীয় দেশগুলো কিয়েভকে শত শত কোটি ডলারের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে আসছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন