খেলাধূলা ডেস্ক :
রমিজ রাজাকে পিসিবির চেয়ারম্যান করার পেছনে সবটাই অবদান ছিল পাকিস্তানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের! প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার পতন ঘটেছে। রমিজ রাজার তাহলে কী হবে? ঘটনার ধারাবাহিকতায় তার পরিণতিও কি খানের মতোই হবে? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশটির ক্রিকেটাঙ্গনে।
যদিও পিসিবি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ক্রিকেট পাকিস্তানের রিপোর্টে এর আগে বলা হয়েছিল, দ্রুতই স্বেছায় পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রমিজ রাজা। তার জায়গায় পাকিস্তান ক্রিকেটের সর্বেসর্বা হয়ে ফেরার উজ্জ্বল সম্ভাবনা পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠীর।
তবে এবার পাওয়া গেল নতুন খবর। রমিজের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র প্রখ্যাত দৈনিক ডনকে জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী কী সিদ্ধান্ত নেন, সেই অপেক্ষাই করবেন পিসিবি চেয়ারম্যান। আপাতত নিজে থেকে দায়িত্ব ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই তার।
তবে ইতিহাস বলছে, ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনের ঢেউ লাগে সবখানে। বিরোধী দলের নেতা ও সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের খুব কাছের লোক নাজাম শেঠী। ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব নিতে তিনি আগ্রহী এবং ইতোমধ্যেই এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
৭৩ বছর বয়সী নাজাম শেঠী প্রথম দফায় ২০১৩ সালে পিসিবির চেয়ারম্যান হন কিন্তু এ জন্য তাকে আইনি লড়াই লড়তে হয় চৌধুরী যাকা আশরাফের সঙ্গে। ২০১৪ সালে তিনি দায়িত্বে ফেরেন কিন্তু শাহরীয়ার খানকে পিসিবির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং শেঠীকে ক্ষমতাশালী নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পর্দার আড়ালে মূল ক্ষমতা তার হাতেই ছিল।
২০১৭ সালের আগস্টে তিনি পুনরায় পিসিবির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান কিন্তু এক বছর পর ইমরান খান ক্ষমতায় এলে তাকে পদ ছেড়ে দিতে হয়। ইমরান খান তার জায়গায় আইসিসির সাবেক প্রেসিডেন্ট এহসান মানিকে পিসিবির সভাপতির দায়িত্বে বসান।
নাজাম শেঠী পিসিবির দায়িত্বে ফিরে তার কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে চান। রমিজের মতো তারও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) নিয়ে বড় পরিকল্পনা আছে। তিনি পিএসএলকে বড় ব্র্যান্ডে পরিণত করতে চান, যা তার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। তার কিছু কাছের লোকেরও সম্ভাবনা রয়েছে পিসিবিতে ফেরার।
এদিকে, ক্রিকেট ছাড়ার পর ধারাভাষ্যকার হিসেবে খ্যাতি পান রমিজ রাজা। সবশেষ ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইজাজ বাট সাবেক কোনো ক্রিকেটার হিসেবে ছিলেন পিসিবি সভাপতির দায়িত্বে। তার মেয়াদেই টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এছাড়া পিসিবির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হাওয়া বদলের ঢেউ লেগেছে পাকিস্তান ক্রিকেটে। তার দায়িত্ব কালে সবচেয়ে বড় সাফল্য প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়াকে পাকিস্তান সফরে আনা। এছাড়া পিএসএলকে বৈশ্বিক রূপ দিতে পেরেছেন।
