হোম অন্যান্যসারাদেশ নড়াইলে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে চায়ের দোকানীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ

নড়াইল অফিস :

নড়াইলে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তপতী বিশ্বাস নামে এক চায়ের দোকানীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা ও মারধোর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ভক্তভোগি স্থানীয় পুলিশ ফাড়িসহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন।

তপতী বিশ্বাস জানান,স্বামী প্রবীর বিশ্বাসের তেমন আয় রোজগার নেই। স্বামী দুই সন্তান নিয়ে তার অভাবের সংসার। সম্প্রতি এবটি বেসরকারি সংস্থা থেকে কিছু টাকা লোন নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকান করেন। দোকানে প্রতিবেশি পলাশ বিশ্বাস নামে একজন খরিদ্দার প্রতিদিন চা পান করতে আসেন। তার কাছে বেশ কিছু টাকা বাকি পরে। পাওনা টাকা চাইলে পলাশ বিশ্বাস তার বাড়িতে যেতে বলেন।

গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে টাকা আনতে পলাশের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি সুকৌশলে দোকানীকে জোর করে ঘরের মধ্যে আটকে গলা চেপে ধরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। দোকানীর ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পলাশ বিশ্বাসের বউদি সুমি বিশ্বাস বাড়িতে এসে পড়লে পলাশ দোকানীকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে পলাশের বউদি উল্টো তাদের বাড়িতে তপতী বিশ্বাস চুরি করতে এসেছিল এই অপবাদ দিয়ে মারধর করেন। দোকানী ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিষয়ীট তার স্বামীকে জানায়। তার স্বামী বিষয়টি গ্রামের ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন মুরুব্বীকে জানান এবং স্থানীয় পুলিশ ফাড়িতে লিখিত অভিযোগ করেন।

এলাকার কয়েকজন মুরুব্বী জানান.আড়পাড়া গ্রামের পলাশ বিশ্বাস (৪০) একটি বখাটে ও নেশাখোর ছেলে। দুইটি বিয়ে করে তাদের ছেড়ে দিয়েছেন। ছোট স্ত্রী সম্প্রতি আদালতে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করেন। মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাকে জেলে পাঠান।

পলাশ বিশ্বাসের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বউদি সুমি বিশ্বাস তার দেবর তপতীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,তপতী বিশ্বাস চুরি করতে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে।

পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় বলেন, গ্রামে দলাদলি আছে। একজন আরেক জনকে ফাসাতে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন কিনা তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন