নড়াইল অফিস :
নড়াইলের কালিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় নড়াইল-১ আসনের সংসদের নেতৃত্বে গুলিবর্ষণ ও হামলার অভিযোগ । জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু ১৬ অক্টোবর শনিবার রাত ৮টায় দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
এসময় জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার পিতা গোলাম মর্তুজা স্বপন, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্বপন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ কুন্ডু মিটুল, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আলমগীর হোসেন আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহামুদুল হাসান কায়েস, নড়াইল পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডু, আওয়ামীলীগ নেতা শেখ সালাউদ্দিন নান্না, হাফিজ খান মিলন,পৌর কাউন্সিলন শরফুল আলম লিটুসহ দলীয় নেতৃবন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ১২ ইউনিয়নে তৃতীয়ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে কালিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা উপলক্ষে কালিয়ায় যায়। বর্ধিত সভাস্থল কালিয়া পৌর কমউনিটি সেন্টারে পৌঁছানোর আগেই সমাবেশ স্থলে
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তির নেতৃত্বে ওই সমাবেশে হামলা চালায় এবং কমউনিটি সেন্টারের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ২ থেকে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে।
এসময় হামলা কারীরা বর্ধিত সভাস্থলের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিলনা যা রহস্য জনক। এসময় অমি ওসি সাহেবকে ফোন দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কবিরুল হক মুক্তি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতিক নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থী পক্ষে কাজ করিয়েছেন বলেও তিনিঅভিযোগ করেন ।
কালিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এসময় চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে কমপক্ষে ৭লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধারন করেছে। এসময় গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মি আহত হয়েছেন।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু ও কালিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষ বিভিন্ন ইউনিয়নের দলীয় প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়ন বানিজ্যের কারণে দলীয় নেতা-কর্মীরা বিশৃঙ্খলা করেছে। নড়াইল সদরের মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন যেটা ওপেন হয়ে গেছে। সেই সকল নেতাকর্মীরা কোন ঘটনা ঘটাতে পারেন।এই ঘটনার সাথে আমার কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কনি মিয়া বলেন, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। ফোন বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে পকেট থেকে মোবাইল ফোন পড়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায় পরে বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে টের পেয়ে অন করি।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সুবাস বোস বলেন, বৃষ্টির কারণে বর্ধিত সভাস্থলে পৌছাতে আমার দেরি হয়েছে। বিধায় ওখানে কি হয়েছে জানিনা। সাধারণ সম্পাদকের ডাকা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার কালিয়া থেকে আসতে দেরি হওয়ায় উপস্থিত হতে পারিনি।
