জাতীয় ডেস্ক :
পুলিশের বিশেষ সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ত্রাণ নিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলার উদ্ধার করেছে কলমাকান্দা থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। বুধবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে একটি বাজারের ব্যবসায়ীরা নিজেদের অর্থায়নে ত্রাণ নিয়ে সুনামগঞ্জের মহেষখলা ও বাগলি যাওয়ার পথে কলমাকান্দায় দুর্ঘটনার কবলে পড়লে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে।
পরবর্তী সময়ে বেঁচে যাওয়া ত্রাণের প্যাকেটগুলো ওই গ্রামেই বিতরণ করা হয়। এর আগে সকালে ১৪ জনের একটি টিম টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে এসব ত্রাণ নিয়ে দুপুরে কলমাকান্দায় পৌঁছে।
ট্রলারে থাকা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের টাঙ্গাইল জেলার সহসভাপতি ও সখীপুর উপজেলার ৬ নম্বর কালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম সরকার বলেন, ‘আমাদের সখীপুর একটি বড় বাজার রয়েছে। এটি থেকে বড় রাজস্ব আসে। আমরা সবাই মিলে ব্যবসায়ীদের থেকে উত্তোলিত টাকা দিয়ে বন্যার্তদের জন্য ৭ কেজি চালসহ তেল, ডাল, পেঁয়াজসহ সাড়ে ১০ কেজি করে প্রতি প্যাকেটে মোট ৬০০ প্যাকেট করি। এটি নিয়ে কলমাকান্দা দিয়ে যাচ্ছিলাম। মহেষখলা থেকেই আমাদের জন্য ট্রলারটি পাঠায়। কিন্তু ঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটারের মতো দূরত্বে হাওড়ে যেতেই পানির নিচে থাকা একটি পিলারে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারে পানি উঠে যায়।’
তিনি বলেন, ‘ট্রলারটি ডুবে যেতে থাকলে আমরা তাৎক্ষণিক ফোন দিলে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা দ্রুত যান। তবে স্থানীয় ওই নোয়াগাঁও এলাকার মানুষ প্রথমেই আমাদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আমরা ত্রাণের তিন ভাগের এক ভাগ প্যাকেট ট্রলারের ছাদে রেখেছিলাম। বাকি দুই ভাগ ভেতরে ছিল। ছাদেরগুলো অরক্ষিত ছিল। পরে ট্রলারের ছাদ ভেঙে ওগুলো বের করা হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতি হয়নি। আমরাও কোনো ধরনের আহত হইনি। ত্রাণগুলো পরে তাৎক্ষণিক ওই এলাকার বন্যার্তদের মাঝেই বিতরণ করে দিই।’
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলমাকান্দা ফায়ার স্টেশন অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের থানা থেকে খবর দিলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই।’ স্থানীয় এবং ট্রলার চালকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কলমাকান্দা সদরের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে রাজাপুরে বিদ্যুতের তার যায়। এটির একটি খুঁটি ভেঙে পড়ে আছে বিলের পানির নিচে। এটার ওপর দিয়ে ট্রলার যেতেই নৌকার তলা ফেটে পানি ওঠে। আমরা দ্রুত চেষ্টা করে উদ্ধার করে দিয়েছি। ত্রাণগুলোও তারা বিতরণ করে ফেলেছেন।’
এ ব্যাপারে কথা বলতে কলমাকান্দা থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কথা বলা যায়নি।
