আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আফগানিস্তানে যেসব নারী সরকারি অফিসে চাকরি করতেন, তাদের চাকরি ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে। আর তাদের জায়গায় তাদের পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য কিম্বা কোনো আত্মীয়-স্বজনকে পাঠাতে বলছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রায় দুই দশকের গৃহযুদ্ধ শেষে আফগানিস্তানে গত (২০২১) বছরের আগস্টে ক্ষমতা দখল নেয় তালেবান। এর কিছুদিন পরই যেসব নারী সরকারের বিভিন্ন পদে চাকরি করতেন, তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাদের এখনও চাকরিচ্যুত করা হয়নি। অনেকটা বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেয়া হচ্ছে। যদিও বেতনের পরিমাণ আগের চেয়ে কম।
তালেবান সরকার এসব নারী কর্মীদের জায়গায় পুরুষ কর্মী নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিষয়টি নারী কর্মীদের জানানো হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে বেশ কিছু নারী কর্মী জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ফোন করে তাদের পরিবারের যোগ্য কোনো পুরুষ সদস্য বা কোনো আত্মীয়কে তাদের বদলি হিসেবে চাকরি করার জন্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
এমন পরিকল্পনার কারণ হিসেবে সরকারের পক্ষ বলা হচ্ছে, ‘অফিসে কাজের পরিমাণ বেড়ে গেছে। সেজন্য নারী কর্মীর বদলে তাদের পুরুষ কর্মী দরকার।’ তবে কোনো নারী কর্মী এখনও তাদের বদলি পাঠিয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।
তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর পুরোনো রীতি থেকে বেরিয়ে আসার বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া। কিন্তু দিন যতই গড়াচ্ছে, ততই আগের রূপে ফিরছে গোষ্ঠীটি।
প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাধ্যমিক স্কুলগুলো খুলে দেয়ার পরপরই আবারও বন্ধ করে দেয় তালেবান সরকার। পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলা হলেও কবে নাগাদ খুলবে জানেন না কেউই। এ পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তায় পড়েছে নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা।
এদিকে নারীর কর্মসংস্থানে বিধিনিষেধ আরোপ করায় আফগান অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন থেকে দুই মাস আগে জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস বলেন, নারী কর্মসংস্থানে চলমান বিধিনিষেধের কারণে গত এক বছরে আফগান অর্থনীতির প্রায় ১০০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে। এটা আফগানিস্তানের মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ।
