নড়াইল প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইল–২ আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এবারের প্রচারণায় যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। প্রার্থীরা সরাসরি এসে দাঁড়ালেন সাধারণ ভোটারদের কাঠগড়ায়। ‘একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে নড়াইল চৌরাস্তার মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘জনগণের মুখোমুখি’।
দুপুরে শুরু হওয়া এই নাগরিক সংলাপে ভোটারদের প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রার্থীরা। দুর্নীতি দমন, এলাকার প্রধান ৫টি উন্নয়ন কাজ চিহ্নিত করা এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কাছে জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন উপস্থিত জনতা। সংসদ সদস্য সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন নাকি তদারকি করবেন—এমন নীতিগত প্রশ্নেও প্রার্থীরা তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্যসেবা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও বেকারত্ব দূরীকরণে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভিশন জানতে চান ভোটাররা।সুজন নড়াইল জেলা কমিটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মল্লিকের সভাপতিত্বে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ৭ জন প্রার্থী,এ জেড এম ফরিদুজ্জামান (বিএনপি—ধানের শীষ) খন্দকার ফায়েকুজ্জামান (জাতীয় পার্টি—লাঙ্গল)মো. আতাউর রহমান (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—দাঁড়িপাল্লা)মো. তাজুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—হাতপাখা) মো. মনিরুল ইসলাম (স্বতন্ত্র—কলস)মো. শোয়েব আলী (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট—ছড়ি)মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন (স্বতন্ত্র—জাহাজ)
তবে এই সংলাপে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. নূর ইসলাম (ট্রাক প্রতীক) অনুপস্থিত ছিলেন। তর্ক–বিতর্ক আর প্রশ্নের চাপ থাকলেও অনুষ্ঠানের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত ছিল যখন সকল প্রার্থী একে অপরের হাত ধরে মঞ্চে দাঁড়ান। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নড়াইলের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উপস্থিত ভোটাররা হাততালি দিয়ে এই সম্প্রীতিকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুজন নড়াইল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান লাভু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন–এর খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু। পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন সাপ্তাহিক নড়াইলকণ্ঠ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রার্থীরা ভোটারদের উদ্দেশে এক মিনিট করে সমাপনী বক্তব্য দেন এবং ভবিষ্যতে সততার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য সুজন কর্তৃক নির্ধারিত শপথ বাক্য পাঠ করেন।
সুজন নেতৃবৃন্দ জানান, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এই আয়োজন। প্রার্থীদের সরাসরি জনগণের মুখোমুখি করার মাধ্যমে একটি জবাবদিহিতামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
