বিনোদন ডেস্ক :
বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে ক্ষণজন্মা এক নক্ষত্রের নাম সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালের আজকের এ দিনে (৬ সেপ্টেম্বর) রহস্যময় মৃত্যুতে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। স্মৃতির পাতায় সোনালি অক্ষরে লেখা হয় তার নাম। এবার সালমান শাহকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করা নায়িকা শাবনূর।
সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে জুটি হওয়ার পাশাপাশি যে মানুষটি ছিল বন্ধু, পরামর্শক, সমালোচক এবং ভালো কাজের অনুপ্রেরণাদাতা- সে একজনই, সালমান শাহ।’
শাবনূর বলেন, ‘দুই যুগ পরও চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার শূন্যতা পূরণ হয়নি। হয়তো কোনোদিন হবেও না। তার কারণ, সালমান তার সময়ের চেয়ে নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে রাখার চেষ্টা করত। যে জন্য অভিনয়ে বারবার নিজেকে ভেঙে নতুন রূপে পর্দায় তুলে ধারার চেষ্টা করেছে। সে কারণেই সালমান আজ চলে যাওয়ার ২৫ বছর পরও প্রাসঙ্গিক।’
এ নায়িক আরও বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরুতে সর্বাধিক সিনেমায় তার সঙ্গে জুটি হওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। একসঙ্গে ১৪টি সিনেমায় জুটি হয়েছি আমরা। কিন্তু এই জুটি একদিন ভেঙে যাবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। তার শূন্যতা আমার মতো সিনেমাপ্রেমী অনেকের মনে আজও আঁচড় কেটে যায়।’
এদিকে, চলে যাওয়ার ২৫ বছর পরেও শ্রদ্ধাভরে তার নামটি স্মরণ করেন অসংখ্য ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। আজও ভক্তের ‘অন্তরে অন্তরে’ সালমান শাহ। থাকবেন যত দিন বাংলা সিনেমা থাকবে।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার পুরো নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর দুই ছেলের মধ্যে সালমান শাহ বড়। তার ছোট ভাইয়ের নাম শাহরান চৌধুরী ইভান।
খুলনার বয়রা মডেল হাইস্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন সালমান শাহ। ১৯৮৭ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন ঢাকার ধানমন্ডির আরব মিশন স্কুল থেকে। এরপর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হককে বিয়ে করেছিলেন সালমান শাহ।
১৯৮৫ সালে অভিনয় জীবন শুরু করেন সালমান শাহ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয় করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় তার। বড়পর্দায় অভিষেক হয় ১৯৯৩ সালে, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে।
মৌসুমী-সালমান শাহকে জুটিকে সোহান নির্মাণ করেন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ওই সময়ই তার নাম রাখা হয় সালমান শাহ। ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমায় মৌসুমীর সঙ্গে হলেও শাবনূরের সঙ্গে জুটি হয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন এ নায়ক। সালমানের মুক্তিপ্রাপ্ত ২৭ সিনেমার মধ্যে ১৪টির নায়িকাই ছিলেন শাবনূর।
ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে একমাত্র নায়ক সালমান শাহ। যিনি সর্বমহলে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছিলেন। পাশাপাশি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তরুণদের স্টাইল আইকন হিসেবে। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে ভিন্ন স্টাইল আর ফ্যাশনে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।
সালমান শাহ আজ নেই। আছে তার প্রিয় ইন্ডাস্ট্রি। আছে তার কাজ, অভিনীত সিনেমা আর অনেক সহকর্মী। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সালমান শাহকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ আজ সময়ের দাবি। সালমান ভক্তদের দীর্ঘদিনের চাওয়া এফডিসি অভ্যন্তরে তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখা হোক। যেমনটা করা হয়েছে জহির রায়হান, মুক্তিযোদ্ধা জসিম আর চিত্রনায়ক মান্নাকে।
আজকের দিনে সালমান শাহকে স্মারণ কররে তার অসংখ্য ভক্ত ও সহকর্মীরা। অমর নায়কের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। সমিতির স্ট্যাডি রুমে আজ বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হবে। হাইকোর্ট মাজার মসজিদ এবং সিলেটে দোয়ার আয়োজন করেছে সালমান শাহ ভক্ত ঐক্যজোট। এছাড়া প্রিয় নায়ককে স্মরণ করে ময়মনসিংহে শোক র্যালি করবে সালমান শাহ ভক্তরা।
