সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৭ওয়ার্ডের উজ্জল পুর গ্রামে। বন্যা শুরু হওয়ার প্রথম দিকেই এই গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িঘরে পানি ওঠা শুরু করে।এই অবস্থায় কেউ কেউ গরু-বাছুর নিয়ে আশপাশের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে পানি উঠে যাওয়া ঘরের ভেতরই উঁচু মাচান তৈরি করে এক প্রকার বন্দি হয়েই দিন কাটাচ্ছেন। কেউবা আবার গিয়ে উঠেছেন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার নৌকা যোগে উজ্জলপুর গ্রামে যান এই সংবাদদাতা।
কেমন আছেন জানতে চাইলে উজ্জললপুর গ্রামের শিরি মৌলার ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া আব্দুন নুর(৫৫) নৌকা ভেড়াতেই ভেজা ভেজা চোখ নিয়ে হাউমাউ করে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন। ২ছেলে,২মেয়ে ও বউকে নিয়ে অন্যের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছি।
(পেটে) দানাপানি নাই, তিন দিন ধইরা কিছু খাওয়া হয় না, গলাও শুগায়া গেছে। খাওনের পানিও নাই।’
উজ্জলপুর গ্ৰামের স্হানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল রহিম বলেন।গত শুক্রবার তার ঘরটি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ায়,শিশু সন্তানসহ পরিবারের লোকজনকে নিয়ে তিনি!ছয় দিন ধরে একই গ্ৰামের শিরি মৌলার বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া আব্দুন নুর,কোনো সরকারি ত্রাণ পাননি এরমধ্যে এক ব্যক্তি কিছু চিড়া-মুড়ি দিয়েছিলেন। সেটাই খেয়েছেন। গ্ৰামের আশেপাশের বাড়ির অন্যদের কাছেও কিছু শুকনা খাবার ছিল।সেটা ভাগাভাগি করে স্ত্রী,সন্তানদের কে নিয়ে খেয়েছেন তারা।
মোঃ আব্দুল রহিম মিয়া আরও বলেন গ্রামে ভাঙাচোরা ছোট একটি ছাপড়া ঘরে বসবাস করতেন তিনি। বানের পানিতে ভেসে গেছে তার ছোট্ট ঘরটিও।
ছেলে,মেয়ে নিয়ে অন্যের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া আব্দুল নুর বললেন, ‘কামাই রুজিরোজগারে অক্ষম হইলেও ভাই আমি এমুন বিফদে কোনদিন পড়ি নাই। গেছেকাইল দুই মুঠ চিড়া খাইছলাম, এইহানে অন্যরারও খাওন নাই। আমারেই বা কি খাওয়াইব।’
সন্তানেরা খাবারের জন্য কাঁদছে। তাদের কেউই সরকারি ত্রাণ দেয়নি। ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ কেউ শুকনা খাবার দিয়ে গেছেন। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সুপেয় পানির অভাবও প্রকট এখানে। শুধু আব্দুন নুর না। যারা কোনো রকমে ঘরবাড়িতে রয়ে গেছে, তারাও বলছে খাবারের অভাবের কথা।
“অসহায় আব্দুন নুর আরও বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা (মা) বন্যায়- যাদের ঘরবাড়ি ভাঙিয়া গেছে শুনছি সবাই কে ঘর দিবাইন। ছেলে,মেয়ে ও বউকে লইয়া থাকার মতো আমার কোন ঘর নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা (মা) যেন আমারে একটা ঘর দিইন। আমি প্রধান মন্ত্রীর ঘরে ছেলে,মেয়ে নিয়ে থাইকা মরতে চাই।
গ্রাম ঘুরে মানুষের সাথে কথা বললে তারাও দাবি করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দেয়া ত্রাণসহায়তা তারা পাননি। গ্রামের টিউবওয়েল তলিয়ে গেছে। সুপেয় পানি সংকটেও আছে মানুষ।
ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবিব বলেন,পূর্ণ বাসনের তালিকা তৈরির কাজ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে চলছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
এবিষয়ে উপজেলার শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আলী হায়দার বলেন পূর্ণ বাসন তৈরি তালিকার কাজ চলমান।
তিনি আরো বলেন এমন অসহায় ব্যক্তির জন্য সর্বত্র চেষ্টা করবো।
