আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোডম্যাপ তৈরির পরামর্শ দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তালেবান সরকার নিয়ে পাকিস্তানের পরিকল্পনা জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি।
এ সময় তালেবানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাস্তববাদী হতে হবে। ধৈর্য রাখতে হবে। সম্পৃক্ত হতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো বিচ্ছিন্ন রাখা যাবে না।
তালেবানের উদ্দেশে শাহ কোরেশি বলেন, ‘তালেবান যদি প্রত্যাশা জাগিয়ে রাখে, তাহলে তাদের জন্য সহজ হবে, তারা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, যেটা স্বীকৃতির জন্য অবশ্যই প্রয়োজন।’
এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বুঝতে হবে, তাকেবানের বিকল্প কী? আর কোনও রাস্তা কি আছে? এটায় এখন বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতা পালটাতেও তারা পারবে না।
কোরেশি বলেন, আমরাও চাই আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা এবং শান্তি ফিরে আসুক। তালেবানকে নিশ্চিত করতে হবে কোনও দেশের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ভূমি যেন ব্যবহার না হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ আপনারা আরও বাস্তববাদী হন। তাদের সঙ্গে কিভাবে সম্পৃক্ত হবেন তারা সঠিক পথ খুঁজুন। এর আগে যা পদক্ষেপ নিয়ে তা কোন ভাল ফল নিইয়ে আসেনি।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, আইএমএফসহ এবং অন্য যেসব দেশ আফগান সরকারের অর্থ জব্দ করে রেখেছে সেগুলো অবিলম্বে ছাড় করে দেওয়ার অনুরোধ জানান শাহ মাহমুদ করেশি।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুরাইশি বলেন, তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে আফগানিস্তানের ঘটনাবলী পর্যালোচনা করবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
তিনি বলেন, বর্তমান পর্যায়ে কোনো দেশ আফগানিস্তানের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে তাড়াহুড়ো করবে বলে মনে হচ্ছে না। তালেবানের উচিত এ বিষয়ে নজর রাখা। তারা যদি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে চায়, তবে আন্তর্জাতিক মতামত আরও বেশি করে মেনে নিতে হবে এবং স্পর্শকাতর হতে হবে।
কুরাইশি বলেন, পাকিস্তানের উদ্দেশ্য হচ্ছে আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। তারা যদি সেটি অর্জন করতে চায়, তবে তালেবানকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করতে হবে।
আফগান তালেবান তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলেই আশা প্রকাশ করেন কুরাইশি। তারা নারীদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেবেন বলেও মনে করেন তিনি।
