হোম আন্তর্জাতিক তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডে একীভূত করার অঙ্গীকার করলো শি

তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডে একীভূত করার অঙ্গীকার করলো শি

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 60 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনরায় একীভূত করার জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) খ্রিস্টীয় নববর্ষের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শি জিনপিং তার ভাষণে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মাতৃভূমিকে একীভূত করা এখন সময়ের দাবি এবং এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াকে কোনো শক্তিই থামিয়ে রাখতে পারবে না।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের চারপাশে চীনের দুই দিনব্যাপী বিশাল সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার ঠিক এক দিন পরেই সির এই কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বেইজিং বরাবরই স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকি দিয়ে রাখছে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে গত সোম ও মঙ্গলবার তাইওয়ানকে ঘিরে পরিচালিত ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামক বিশাল সামরিক মহড়াকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ওই মহড়ায় চীন অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান এবং কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে তাইওয়ানকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল।
shi 2

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, এই মহড়া চলাকালীন চীন অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার বেশ কয়েকটি দ্বীপটির উপকূল থেকে মাত্র ২৭ নটিক্যাল মাইল দূরে আঘাত হানে। যদিও মহড়া আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হয়েছে, তবে তাইওয়ান এখনও উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কারণ বর্তমানেও দ্বীপটির চারপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ২৫টি জাহাজ অবস্থান করছে এবং নজরদারি চালানোর জন্য চীন বিশেষ বেলুন পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের পাল্টা জবাব হিসেবেই চীন এই রণপ্রস্তুতি প্রদর্শন করেছে। সির ভাষণের সময় চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত দেশটির বৃহত্তম সামরিক কুচকাওয়াজের দৃশ্য প্রচার করা হয়, যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন উপস্থিত ছিলেন।

পশ্চিমা বিশ্লেষকরা চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতাকে ‘অ্যাক্সিস অব আপহিবল’ বা ‘উত্থানের অক্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তাদের আশঙ্কা, শি জিনপিংয়ের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই চীনা সেনারা যেকোনো মুহূর্তে তাইওয়ানে আক্রমণ চালাতে পারে।

অন্যদিকে, চীনের এই আধিপত্যবাদী আচরণের কড়া জবাব দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। নববর্ষের ভাষণে তিনি চীনের ‘আধিপত্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়ে তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির প্রস্তাব পাসে পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনের এই সামরিক উসকানির তীব্র সমালোচনা করলেও চীন বিষয়টিকে তাদের সম্পূর্ণ ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে অভিহিত করে বাইরের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের এই চেষ্টা এশীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন