হোম আন্তর্জাতিক ট্রানজিট সুবিধায় বাংলাদেশ, বাড়বে রফতানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের মধ্য দিয়ে অন্য কোনো দেশে পণ্য পাঠাতে পারে না বাংলাদেশ। তবে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানের মতো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রফতানি করতে পারে। নেপাল ও ভুটান ভূবেষ্টিত দেশ হওয়ায় সমুদ্রপথে আমদানি-রফতানির সুযোগ নেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশকে তৃতীয় দেশে পণ্য রফতানির জন্য ট্রানজিট সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। এ জন্য ভারতকে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। তবে বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট বন্দর বা স্থল কাস্টম ব্যবহার করতে হবে। এ ব্যবস্থাকে ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্ট বলা হয়।

৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে এ ট্রানজিট সুবিধার প্রস্তাব পায় বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রাক ভারত হয়ে নেপাল ও ভুটানে যেতে পারবে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গতিশীল হবে।

ট্রানজিট ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণও জানিয়েছে ভারত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নেপাল ও ভুটানে বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ বাড়বে। বাংলাদেশের পণ্য রফতানির আরও কিছু সুযোগ তৈরি হবে।

সদ্য উদ্বোধন হওয়া চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ও বিরল সীমান্ত দিয়ে রেলপথে ভারতের ট্রানজিট সুবিধা নিয়ে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ আছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগও নিতে পারবে বাংলাদেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে নেপালে পণ্য রফতানি করতে হলে প্রথমে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পণ্যের চালান নিতে হয়। সেখান থেকে নেপালের বা ভারতের ট্রাকে করে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার ভূখণ্ড পাড়ি দিয়ে নেপালের কাকরভিটা সীমান্তে পণ্য যায়। এভাবে ভারতের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কাঠমান্ডুতে পণ্য পৌঁছে। স্থলপথে একইভাবে নেপাল থেকে পণ্য আমদানি হয়।

ঢাকায় নেপাল দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ৬৭ কোটি নেপালি রুপির সমপরিমাণ পণ্য রফতানি হয়েছে। অন্যদিকে নেপাল থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ৬৭ কোটি রুপির পণ্য।

আবার ভুটানে পণ্য রফতানি করতে হলে বুড়িমারী সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক যায়। সেখান থেকে ভারতের প্রায় ৯০ কিলোমিটার ভূখণ্ড পাড়ি দিয়ে জয়নগর সীমান্ত দিয়ে ভুটানে ঢোকে ট্রাক।

ট্রানজিট ছাড়াই নেপাল-ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্য সম্পর্ক গতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে খাদ্যজাত পণ্য, আসবাব, টিভি, ফ্রিজ ও মোটরসাইকেল নেপালে রফতানি করা হয়। অন্যদিকে ভুটানে রফতানি করা হয় পোশাক, ওষুধ, জুস ও কোমল পানীয়।

সম্প্রতি কাঠমান্ডু সফরে নেপালি এক সংসদ সদস্য বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে তারা (নেপাল) সামুদ্রিক মাছ, সার, সিরামিক সামগ্রী, তৈরি পোশাক ও শাড়ি নিতে আগ্রহী। এটি সম্ভব যদি ভারত বাংলাদেশকে তাদের ১৬ মাইল করিডোর (চিকেন নেক) ব্যবহার করার অনুমোদন দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের প্রস্তাবিত ট্রানজিটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ আরও বাড়বে। ট্রানজিট সুবিধার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু যে নেপাল ও ভুটানের বাজার সম্প্রসারিত হবে, তা নয়। নেপাল-ভুটান ছাড়া শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও চীনও রয়েছে- এই দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত না থাকলেও ভারতের রয়েছে।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে রয়টার্সের এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কি ভারতের কাছে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য করিডোর দাবি করবেন? জবাবে তিনি বলেছিলেন, হ্যাঁ। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে সে ধরনের কোনো ট্রানজিট সুবিধা দেয়া হয়নি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের (পূর্ব পাকিস্তান) স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশ থেকে ট্রানজিট সুবিধা পেয়েছে ভারত। সেসময় ভারত নৌপথে পণ্য নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। পরে ভারতকে আখাউড়া থেকে আগরতলায় বহুমাত্রিক ট্রানজিট দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিটের পরীক্ষামূলক চালানও ভারতে গেছে।

চলতি বছর বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ভারতকে সিলেট, মৌলভীবাজারের সড়ক ব্যবহার করে আসাম থেকে ত্রিপুরা, মণিপুরে জ্বালানি পরিবহনের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ। তবে, দুই মাসের জন্য করা এ চুক্তির মেয়াদ সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ শেষ হবে। সম্প্রতি ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। এ সুবিধার মেয়াদ বাড়তেও পারে। কারণ, এ পথে ভারত থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন