জাতীয় ডেস্ক :
রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের লাশ পাওয়া গেলে তার ছবি ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেখাতে চ্যালেঞ্জ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক মোজাম্মেল হক।
বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ মন্ত্রণালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, সংসদ ভবনের আশপাশের নকশা বহির্ভূত সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হবে।
জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে মিথ্যাচারের রাজনীতি করছে বিএনপি- এ কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি জিয়ার সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই, তবে ইতিহাসের বিকৃতি চাই না। চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার লাশ নেই অথচ সেখানে শ্রদ্ধা জানাবেন, ইতিহাসের এমন বিকৃতি হতে দেওয়া যায় না।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের বীরত্বগাঁথা ‘অপারেশন জ্যাকপট’ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, জিয়ার মরদেহ কবরে থাকলে ডিএনএ টেস্ট করে প্রমাণ করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সাধারণ কোনো নাগরিক ছিলেন না, তিনি যেভাবেই হোক রাষ্ট্রপতি ছিলেন। কাজেই তার সে সময়ের কোনো ছবি থাকবে না এটা হতে পারে না।
সংসদ ভবনের আশপাশ থেকে জিয়ার তথাকথিত মাজারসহ মূল নকশাবহির্ভূত সকল স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি সংসদে বহুবার বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি সংসদ ভবন এলাকা থেকে এসব নকশা বহির্ভূত স্থাপনা সরিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংসদ ভবনকে মূল নকশায় ফিরিয়ে আনার কথা জানান।
মন্ত্রীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের প্রশ্ন তোলার বিষয়েে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য নজরুল ইসলাম খান (যিনি ‘৭১ সালে ১৯ মার্চে গাজীপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন আর মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহবায়ক ছিলেন) আর গাজীপুরের বিএনপি নেতাদের কাছ থেকেই জেনে নিতে মির্জা ফখরুলকে পরামর্শ দেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী।
পাশাপাশি মির্জা ফখরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের সময় কী ভূমিকা ছিল তা খতিয়ে দেখতেও মন্ত্রী সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, নৌযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অপারেশন ছিল ১৯৭১ সালের ‘অপারেশন জ্যাকপট’। এতে আকাশবাণীর গানের সঙ্কেতের মাধ্যমে বিভিন্ন বন্দরে একযোগে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ২৬টি জলযান মাইনের আঘাতে ডুবিয়ে দেয় বাংলার নৌ-কমান্ডোরা। এর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্যই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হবে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া, ‘অপারেশন জ্যাকপট’ গ্রন্থের লেখক মো. শাহজাহান কবির বীর প্রতীকসহ নৌ-কমান্ডো বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে কথা বলার আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রমাণ দিতে বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সকালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
