জাতীয় ডেস্ক :
প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে হল খোলার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ, অর্থাৎ ছাত্রত্ব নেই এমন শিক্ষার্থীদের হলে না ওঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
কিন্তু সে সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলে উঠেছেন ছাত্রত্ব নেই এমন প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী। যাদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৪৩ ও ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আল-বেরুনী হলের প্রাধ্যক্ষ আশরাফুল আলম এবং কথিত ছাত্রলীগ কর্মী এনামুর রহমানের সহযোগিতায় তারা হলে অবস্থান করছেন। হল খোলার শুরুর দিন থেকেই থাকতে শুরু করেছেন অছাত্ররা। শুধু তাই নয়, হল খোলার প্রথম দিন (১১ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোতেও প্রাধ্যক্ষ আশরাফুল আলমের সঙ্গে হলের প্রধান ফটকের সামনে অংশ নেন ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মী।
বিষয়টি ওইদিন দুপুরে হল প্রাধ্যক্ষকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘সবার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয় না, তবে বিষয়টি তিনি দেখবেন।’ এরপর এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেননি। এরপরের দুই দিনে তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে, এর আগে ছাত্রত্ব শেষ ৪৩ ব্যাচের এমন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকে তিনি ফোন করে হলে উঠতে নিষেধ করেছিলেন। শুধু প্রাধ্যক্ষই না, এনামুর রহমানও তাদের হলে উঠতে নিষেধ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তাদের অভিযোগ, ‘ফোন করে নিষেধ করার দায়িত্ব প্রাধ্যক্ষের। কিন্তু এনামুর রহমান কেন তাদের ফোন করেছে।’ আশরাফুল আলমের পৃষ্টপোষকতায় এনামুর রহমান এমন কাজ করেছে বলেও জানান তারা।
ওই ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ ফোন করে হলে উঠতে নিষেধ করেন। বলেন, কোন ঝামেলা হলে তিনি দায় নেবেন না। তার কথার সম্মান রেখে আমরা আর হলে উঠিনি। কিন্তু আমাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা যদি হলে থাকতে না পারি তাহেল অন্যরা কিভাবে থাকছে’ বলেও প্রশ্ন তাদের।
তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘এনাম আমাদের ফোন করে জুনিয়র দিয়ে হল থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দেয়। অথচ সে তার কাছের বন্ধু ও জুনিয়রদের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলে তুলেছে।’
এনাম একসময় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রলীগের নেতারা। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর বাজারে ইয়াবা বিক্রির সময় মারধরের শিকার হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সামনে টাকার বিনিময়ে দোকান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এনামুর রহমানের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল।
যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুর রহমান বলেন, ‘আমি তো প্রশাসনের কেউ না যে, কাউকে হলে উঠাব। তবে যাদের ছাত্রত্ব আছে, সিট সংকটে হলে উঠতে পারছে না তাদের সাহায্য করছি।’
এদিকে, ছাত্রত্ব শেষ এমন শিক্ষার্থীদের বিষয়ে হলে খোঁজ নিলে তাদের ছাত্রত্ব এখনও আছে বলে দাবি করেন। কেউ কেউ আবার থিসিস জমা দেননি বলেও জানান। পরে, তাদের মধ্যে ১০ জনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নেওয়া হলে ৪৩ ব্যাচের ৫ জন এবং ৪৪ ব্যাচের ৩ জনের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে বলে বিভাগগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দু’জনের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সার্বিক বিষয়ে আল-বেরুনী হলের প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী যাদের ছাত্রত্ব শেষ তাদের চলে যেতে বলা হয়েছে। কোন অছাত্র যদি থাকে তাহলে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তো আর পুলিশ না। আমরা সর্বোচ্চ হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার আনুরোধ করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে হলে কোনো অছাত্র নেই। কিছু ছেলে আছে যারা আমার কাছ থেকে কিছুদিনের সময় চেয়েছে এবং তারা দ্রুত চলে যাবে।’
বিষয়টি শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) রাতে হলের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমানকেও জানানো হয়। ওই সময় অছাত্রদের বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও তার কোনো সুরাহা হয়নি।
